জামালপুর প্রতিনিধি \ জামালপুরের ইসলামপুরে স্বাক্ষর জাল করে ক্যাপিটেশন গ্রান্ড প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে সুপারের বিরুদ্ধে। স্বাক্ষর জালয়াতি ও এতিমের অর্থ আত্বস্বাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর ও দুদকে অভিযোগ দাখিল করেছেন এতিম খানা কমিটির সভাপতি। অভিযোগটি আমলে নিয়ে ইউএনও তদন্ত টিম গঠন করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেছেন।
অভিযোগে জানাগেছে, উপজেলার চর পুটিমারী ইউনিয়নের বেনুয়ার চর আশরাফুল উলূম হাফেজিয়া মাদ্রাস ও আব্দুল মালেক মন্ডল এতিম খানার ২২জন শিক্ষার্থীকে সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক সরকারের ক্যাপিটেশন গ্রান্ড প্রকল্পের অর্থ প্রদান করা হয়। এতিম খান সভাপতি ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান সুরুজ মাস্টার, সুপার আনোয়ার হোসেনকে নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করছেন। সকল দেখভালের দ্বায়িত্ব সুপারকেই দিয়েই করিয়ে থাকেন। এই সরলতার সুযোগে সুপার সভাপতিকে না জানিয়ে তার স্বাক্ষর জাল করে গত ২১ মাসের তিনটি বিলের মাধ্যমে প্রায় ৬ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। বিষয়টি সভাপতির দৃষ্টিগোচর হলে সুপারকে তার স্বাক্ষর জাল করার কারণ জানতে চান। দ্রুত বিল উত্তোলন করা দরকার আপনাকে না পেয়ে আপনার স্বাক্ষর আমি প্রদান করেছি বলে সুপার জবাব দেন। এ সময় উত্তোলিত অর্থের হিসাব জানতে চাইলে সুপার তালবাহনা করায় ১০ আগস্ট সভাপতি ইউএনও ও দুদক বরাবর স্বাক্ষর জালিয়াতি ও এতিম খানার অর্থ আত্মসাত অভিযোগ দাখিল করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনে দাবী জানান।
স্থানীয়রা জানান,সমাজকল্যান মন্ত্রনালয়ের নিবন্ধিত ক্যাপিটেশন গ্রান্ড প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানটির সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি অন্যায়। যেখানে ধর্মীয় শিক্ষা, আচার-আচরণ ও নৈতিকতার বন্ধন তৈরি হওয়ার কথা সেখানে, যদি দুর্নীতি ও অনিয়ম হয় তাহলে অচিরেই দমন করা প্রয়োজন। তারা স্বাক্ষর জাল ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, করে অভিযুক্ত সুপারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানান।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সুপার আনোয়ার হোসেন বলেন- এতিম খানার সভাপতি অনুপস্থিত থাকায় আমি বিল উত্তোলন করেছি। গাই বাছুর মিল থাকলে যা হয় আরকি। আমি সভাপতির সাথে কথা বলেই স্বাক্ষর দিয়ে তিনটি বিল উত্তোলন করেছি।
উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা রহুল আমীন বলেন,এ বিষয়ে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইউএনও অফিস কর্তৃক তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করছি। শিগগিরই প্রতিবেদন জমা দেব।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জোবায়ের বলেন, এই বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন সত্যতা মিললে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




