নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ১১টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দাখিলের খবর প্রকাশের পর এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে ওই অভিযোগে নিজের নাম ব্যবহার করা হলেও অভিযোগপত্র দেওয়ার বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে দাবি করেছেন নারায়ণগঞ্জের সাবেক ছাত্রদল নেতা ও ফতুল্লা থানা যুবদল নেতা রুবেল হোসেন।
আমার দেশ অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ফতুল্লা মডেল থানার ওসির বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে চাঁদাবাজি, ঘুষ লেনদেন ও বিভিন্ন অনিয়মের ১১টি অভিযোগ তোলা হয়েছে।
প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে অভিযোগগুলোর মধ্যে ফতুল্লা মডেল থানার কাছাকাছি মেঘনা ও যমুনা তেল ডিপোর পাশে থাকা অবৈধ চোরাই তেলের দোকান থেকে মাসোহারা আদায়, পুলিশ কর্মকর্তাদের বদলি ঠেকানো এবং থানায় মুন্সি পদায়নের বিনিময়ে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া ধর্ষণ মামলার আপস-মীমাংসা, জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া, মাদক কারবারিদের আটকের পর উৎকোচ গ্রহণ, নদী থেকে মাটি কাটা ও ভূমিদস্যুদের সুবিধা দেওয়ার মতো অভিযোগও ওই লিখিত আবেদনে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওসির পুরোনো কিছু ছবি ও মাজার জিয়ারতের ছবি ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টিও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে এসব অভিযোগের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা সরাসরি অস্বীকার করে মুঠোফোনে রুবেল হোসেন বলেন, আমার নাম ব্যবহার করে কে বা কারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বরাবর ফতুল্লা মডেল থানার ওসির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে, সে বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। আমি এ ধরনের কোনো অভিযোগ দিইনি।
তিনি বলেন, প্রায় এক মাস আগে প্রশাসনের লোক পরিচয়ে কয়েকজন আমাকে ফোন করে ওই অভিযোগের বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন। পরে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সংস্থার পরিচয় দিয়ে কয়েকজন আমার অফিসে আসেন। তারা অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আমি পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিই, এই অভিযোগ আমার করা নয়।
রুবেল আরও বলেন, আমি তাদের বলেছি, কেউ যদি আমার নাম ব্যবহার করে অভিযোগ দিয়ে থাকে, তাহলে আমার স্বাক্ষরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন। অভিযোগপত্রে যে স্বাক্ষর রয়েছে, সেটি আমার নয়। বিষয়টি জানিয়ে দেওয়ার পর তারা চলে যান। এরপর এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে আমার কোনো যোগাযোগ হয়নি।
নিজের নাম ব্যবহার করে এমন অভিযোগ দাখিলের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে রুবেল হোসেন বলেন, কারা বা কেন আমার নাম ব্যবহার করেছে, আমি জানি না। তবে আমার নাম ব্যবহার করে কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়ে থাকলে সেটির দায়ভার আমার নয়।
এদিকে, ওসি মো. মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, আসলে এই ব্যাপারটা আমি যখন শুনতে পেরেছি এবং সেটা রুবেল সাহেবই আমার সাথে যোগাযোগ করছে যে, ভাই, আমাকে ডিজিএফআই এর লোকজন ডাকছিল এবং ফোন দিয়েছিল। তারা বলছে যে আমরা নাকি আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু আমি এ ব্যাপারে কিছুই জানি না। আমি ডিজিএফআই ওনাদেরকেও বলে দিয়ে আসছি, আপনার নামে কোনো কমপ্লেইন করি নাই।
ওসি মাহবুব আলম বলেন, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল থাকতেই পারে। কারণ আমি এ থানায় ওসি হিসেবে আসার পরে ফ্যাসিবাদের লোকজন গ্রেপ্তারসহ এখানে কারও ব্যক্তি ইন্টারেস্ট থাকতে পারে। হয়তো এটা আমার জানা নাই, আমরা ধরলে কারও স্বার্থে আঘাত লাগতে পারে। বাট ওনারা যে অভিযোগগুলো দিছে শুনছি, এটার ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না এবং এটা সত্য নয়। এটা হলো আমার দৃষ্টিকোণ থেকে আমি এইটুকু বলব।
রুবেলের কাছ থেকে আপনি শুনতে পেয়েছেন যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছে, সে অভিযোগের বিষয়টা কতটুকু সত্য? এটা নিয়ে কি আপনি যাচাই-বাছাই করেছেন কিনা?
এ প্রশ্নের জবাবে ওসি মাহবুব আলম বলেন, হ্যাঁ, আমি যেগুলো শুনছি কতগুলো পয়েন্ট, এগুলো কোনোটার সাথেই আমার সম্পৃক্ততা নাই এবং আমি এ ব্যাপারে কিছুই জানি না। এবং এটা সত্য নয়। আর অভিযোগটা রুবেলের না সে তো অস্বীকার করছে, সে দেয় নাই। যেহেতু সে দেয় নাই, আর বেনামী দরখাস্তের মেরিট কতটুকু এটা আপনারা সাংবাদিকতায় আছেন আপনারাই ভালো জানেন। যেহেতু কমপ্লেনেন্টই বলতেছে আমি কমপ্লেইন করি নাই, তার মানে এটা ভুয়া কোনো স্বার্থান্বেষী মহল তার কোনো স্বার্থে আঘাত লাগছে, সেজন্য সে ভুয়া বিভিন্ন ঘটনা সাজায়া হয়তো করে থাকতে পারে।




