সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে আদমজী বিহারী ক্যাম্পে গত শনিবার (০৯মে) অভিযান চালিয়েছে যৌথ বাহিনী। অভিযানে গ্রেফতার করা হয় ১১ জনকে। যাদের অনেকেই এ পেশার সাথে জড়িত নয়। জনমনে এখন প্রশ্নবিদ্ধ এ অভিযান নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কারণ প্রশাসনের মাদক বিরোধী এ অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অর্থাৎ পুলিশের ও র্যাবের সাথে উপস্থিত দেখা গেছে বিহারী ক্যাম্প এলাকার মূর্তিমান আতঙ্ক ও শীর্ষ মাদক সম্রাট বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের হত্যা মামলা ও মাদক মামলা আসামি বাবলার ভাই আরেক মাদক সম্রাট মিঠুন, আরমান ও পিচ্চি কে। একাধিক হত্যা ও মাদক মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তাদের দমানো যাচ্ছে না। ডজনেরও বেশি মামলার এই আসামি প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সঙ্গে সখ্য বজায় রেখে বীরদর্পে মাদকের কারবার চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হাত বাড়ালেই মাদক সম্রাট বাবলা বাহিনীর কাছে পাওয়া যাচ্ছে মরন নেশা ইয়াবা -হেরোইন-ফেন্সিডিলসহ বিভিন্ন প্রকার মাদকদ্রব্য। বাবলা ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকলেও থেমে নেই তাদের মাদক ব্যবসা। অথচ তাঁদের বাসা বাড়িতে কোনো অভিযান চালানো হয়নি। এছাড়াও ৩নং বালুর মাঠ এলাকায় অভিযান চালানো হলেও অভিযানের বাইরে থেকে যায় শিমুলপাড়া বিহারীক্যাম্প এলাকা। যেখানে সবচেয়ে বেশি মাদক কারবার বেশি হয় বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। এদিকে মাদক সম্রাট বাবলা- মিঠুন বাহিনী কে শেল্টার দিচ্ছে রেন্ট এ কারের সোর্স কথিত সাংবাদিক জাকির ওরফে কানকাটা জাকির। প্রতিমাসে বিপুল অঙ্কের মাসোহারা নিচ্ছে বিহারী ক্যাম্পের মাদক ব্যবসায়ীদের থেকে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকায় পুলিশের পরিচয় ব্যবহার করে নানা অপকর্ম সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও কোনো মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার হলে তাঁকে ছাড়ানোর তদবির করতে এসআই দের সাংবাদিক পরিচয়ে চাপ প্রয়োগ ও ঘুষ প্রদানেরও অভিযোগ রয়েছে। জানা যায়, সম্প্রতি মাদক বিক্রিতে রাজি না হওয়ায় মোস্তাক (৪৫) নামে এক নাপিতকে কোপানোর ঘটনায় প্রধান আসামি মাদকব্যবসায়ী বাবলা। বর্তমানে বাবলা জামিনে এসে এলাকায় পুনরায় আবির্ভূত হয়ে একক মাদক সাম্রাজ্য কায়েম করেছে। তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলেই নেমে আসে নির্যাতনের খড়গ।এলাকাবাসীর অভিযোগ, থানা পুলিশের এক অসাধু এসআই কর্মকর্তার সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের কারণে বাবলা বাহিনী বরাবরই ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছে। অনেক সময় বাবলাকে সেই কর্মকর্তার সাথে ঘুরতে দেখা যায়। স্থানীয়দের দাবি, অভিযানের খবর আগেই তার কাছে পৌঁছে যায়। এদিকে অনুসন্ধানে জানা যায়, বাবলা বাহিনীর মাদক সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা তার ভাই মিঠুন। এছাড়াও এ বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে রয়েছে পিচ্চি,আরমান, উকিলের ছেলে আকাশ, দুখিনীর ছেলে চাঁন সহ আরো অনেকে।এলাকাবাসীর দাবি জামিনে বেরিয়ে এসে পুরো সিদ্ধিরগঞ্জ জুড়ে মাদকের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন বাবলা। আদমজী বিহারী ক্যাম্পকে মাদকমুক্ত করতে এবং যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে এই শীর্ষ মাদক সম্রাট ও তার সহযোগীদের দ্রুত গ্রেপ্তারে জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা।




