সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আব্দুল করিম (৬০) নামে এক তরুণ দলের নেতাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে যুবদল নেতা সাজ্জাদের বিরুদ্ধে। তবে যুবদল নেতা সাজ্জাদের দাবি মারধর নয় আমাদের উভয়ের মধ্যে ধাক্কা-ধাক্কি হয়েছে। শনিবার (৯ মে) সকাল সাড়ে ১০টায় সিদ্ধিরগঞ্জের আটি ওয়াপদা কলোনী এলাকায় ওই তরুণ দল নেতার মালিকানাধীন হোটেলে এ ঘটনাটি। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ থানায় পাল্টা-পাল্টি অভিযোগ দায়ের করেছে।
ভুক্তভোগী আব্দুল করিম সিদ্ধিরগঞ্জের আটি ওয়াপদা কলোনী এলাকার রুস্তম আলীর ছেলে। তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা তরুণ দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি। অভিযুক্ত সাজ্জাদ নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক ও নাসিক ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য এবং বর্তমানে যুবদলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী আব্দুল করিম জানায়, গত বছর সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ আটি ওয়াপদা কলোনী এলাকায় অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে। উক্ত ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা হিসেবে পুলিশ আমাকে জব্দ তালিকার স্বাক্ষী করে। সেই ঘটনার সূত্র ধরেই গতকাল রাতে সাজ্জাদ আমাকে ফোন দিয়ে বলে আপনি নাকি আমাকে মারবেন, আমি সকালে আসতেছি। আজ সকালে সে আমার হোটেলে আসে, তখন আমি তাকে জিজ্ঞেস করি মামা কি হয়েছে। এসময় সে আমাকে বলে তুই নাকি আমাকে মারবি বলেই আমাকে থাপ্পর মারে। তার সাথে আরো লোক ছিল তারাই একই কাজ করে। এ ঘটনার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ রয়েছে আপনারা চাইলে দেখতে পারবেন। তার সাথে আমার কোনদিন কোন ঝগড়া-ঝাটিও হয়নি। সে কার কাছ থেকে কান কথা শুণে আমার সাথে এ কাজ করেছে। আমি যদি কোন অন্যায় করে থাকি তাহলে আমার সিনিয়র নেতাদেরকে সে জানাতে পারতো কিন্তু তা না করে আমাকে চড়-থাপ্পর মারে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এ ঘটনায় আমি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি।
অপরদিকে এ অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত সাজ্জাদ জানায়, গতকাল রাতে আমার খালাতো ভাই আমাকে ফোন দিয়ে বলে যে, আব্দুল করিম আমাকে ডেকে নিয়ে বলে সাজ্জাদের সাথে তুমি চলাফেরা করবে না। কারণ ৫ আগষ্টের পরে যত মামলা হইছে এবং যারা বৈষম্যবিরোধী মামলায় গ্রেফতার হয়েছে সব সাজ্জাদ করেছে। সে ২০/২৫ লাখ টাকা কামাইছে এবং তার বাসায় কম্পিউটারে আওয়ামীলীগের সকল নেতার ছবি আছে। আসলে আমার কোন কম্পিউটারই নাই। এগুলো বলে সে বলতেছে কিছুদিন পরে নাকি আমাকে কুকুরের মত পিটাবে। তখন আমি রাতেই তাকে ফোন দিয়ে এ কথা জিজ্ঞেস করি যে আমার নামে মিথ্যা অপবাদ ছড়াচ্ছেন কেন আর আপনি নাকি আমাকে পিটাবেন। ওই সময় তিনি এসব কথা অস্বীকার করেন। তখন আমি বলেছি যে সকালে আমি আপনার সাথে এসে সাক্ষাতে কথা বলর। সকালে আমার খালাত ভাইকে সঙ্গে নিয়ে তার সাথে দেখা করে জিজ্ঞেস করি যে, আপনি আমার নামে এ কথা বলছেন কেন? তখন তিনি অস্বীকার করে এবং বলে বললেই কি হয়েছে। এসময় আমাদের উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সে আমাকে ধাক্কা দেয়, আমিও তাকে ধাক্কা দেই। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এর বেশি কিছু হয়নি। পরে স্থানীয়রা বসে আমাদের দুইজনেই আপোষ-মিমাংসা করে দেয়। এরপরেও সে আমার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিয়েছে। সেজন্য আমিও থানায় তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।
এ ব্যাপারে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হক জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। যদি এমন কোন ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।




