সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে আদমজী ইপিজেড কেন্দ্রীক বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষের প্রকাশ্যে অস্ত্র দিয়ে গুলি করা সেই সোহাগ কে নিয়ে এবার চাঁদাবাজিতে নেমেছেন তিন ডজনেরও অধিক মামলার আসামি ও কারাগারে থাকা সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবলীগের সভাপতি মতিউর রহমান মতির সহযোগী হাইব্রিড বিএনপি নেতা জহিরুল ইসলাম ওরফে জহু দাদা। ১০ লাখ টাকা দাবিকৃত চাঁদার টাকা না পেয়ে বসতবাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ ও গ্যাস রাইজার খুলে নেয়ার অভিযোগে আওয়ামী লীগের সহযোগী হাইব্রিড বিএনপি নেতা জহিরুল ইসলাম ওরফে জহু দাদা সহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন আদমজী সোনামিয়া মার্কেট এলাকার ভুক্তভোগী নারী নাসিমা বেগম। শুক্রবার সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় বাদী হয়ে তিনি অভিযোগ টি দায়ের করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মরহুম শনি মিয়ার ছেলে জহু দাদা (৬০), তার সহযোগী কদমতলী এলাকার রমজানের ছেলে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী সোহাগ, ইনুর ছেলে কালন ওরফে ভাগিনা কালন, হিরনচি আনছার দীর্ঘদিন যাবৎ আদমজীনগর সোনামিয়া মার্কেট এলাকা সহ কদমতলী এলাকায়, চুরি ছিনতাই পরিচালনা করা সহ চাঁদাবাজী করিয়া আসিতেছে। এমতাবস্থায় উক্ত বিবাদী বিভিন্ন সময় আমার বাসায় আসিয়া আমার নিকট ১০,০০,০০০/- টাকা চাঁদা দাবি করে। আমি বিবাদীর দাবীকৃত চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকার করিলে বিবাদী আমাকে সহ আমার পরিবারের লোকজনদেরকে বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করে এবং আমার বাড়ীর গ্যাস সংযোগ এর লাইন সহ বৈদ্যুতিক লাইন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করিয়া দেয়। ২০ আগস্ট সন্ধ্যা অনুমান ০৭:০০ ঘটিকার সময় বিবাদী জহু দাদা (৬০) সহযোগী সোহাগ, কালন, হিরনচি আনসার সহ বিবাদীর হুকুমে অজ্ঞাত নামা আরো ৭/৮জন বিবাদীরা বে-আইনী জনতাবদ্ধে দেশীয় তৈরী অস্ত্র ধারালো ছোড়া, চাপাতী, রামদা, এসএস পাইপ ও লাঠি যোঠা নিয়া সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন সোনামিয়া মার্কেট আদমজীনগর সাকিনে আমাদের বাড়ীর ভিতর অনধিকার ভাবে প্রবেশ করিয়া আমাকে সহ আমার পরিবারের লোকজনদেরকে উদ্দেশ্যে করিয়া অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করিতে থাকে। তখন আমার বাসার ভাড়াটিয়ারা বিবাদীদেরকে গালিগালাজ করিতে নিষেধ করিলে বিবাদীরা আমার বাসার ভাড়াটিয়াদেরকে মারধর করার জন্য উদ্যত হয়। তখন আমি আগাইয়া আসিয়া বিবাদীদেরকে বাধা প্রদান করিলে বিবাদীরা আমার নিকট ১০,০০,০০০/- টাকা চাঁদা দাবী করে। আমি বিবাদীদের দাবীকৃত চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকার করিলে সকল বিবাদীরা আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতঃ আমাকে মারধর করার জন্য উদ্যত হয়। আমার ডাক চিৎকার শুনিয়া আশেপাশের লোকজন আগাইয়া আসিতে থাকিলে সকল বিবাদীরা আমাকে এই মর্মে হুমকি প্রদান করে যে, আমি যদি বিবাদীদের দাবীকৃত চাঁদার টাকা না দেই, তাহলে বিবাদীরা আমাকে সহ আমার পরিবারের লোকজনদেরকে সময় সুযোগমত পাইলে যে কোন ক্ষতি সাধন করতঃ খুন করিয়া আমাদের লাশ গুম করিয়া ফেলিবে বলিয়া বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়া চলিয়া যায়। এদিকে নাসিক ৬নং ওয়ার্ড ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় গত ০৫ আগস্টের পর ভোল পাল্টে সন্ত্রাসীদের নিয়ে ব্যাপক চাঁদাবাজির অভিযোগ দুধর্ষ সন্ত্রাসী জহু দাদার বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এলাকাবাসী সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি ও সেনাবাহিনীর কঠোর অভিযান দাবি করেছেন।




