সততার মুখোশে লুটপাটের রাজনীতি ? নারায়ণগঞ্জে এনসিপির নামে ‘কমিশন বাণিজ্য’ বিস্ফোরণ
নিজস্ব প্রতিবেদক :
সততা, স্বচ্ছতা আর নতুন রাজনীতির বুলি—এই স্লোগানকে সামনে রেখে আত্মপ্রকাশ করা এনসিপি আজ নারায়ণগঞ্জে ভয়ংকর এক বাস্তবতার প্রতীক হয়ে উঠছে।
অভিযোগের পর অভিযোগ, বিতর্কের পর বিতর্ক—সব মিলিয়ে দলটির কর্মকাণ্ড এখন আর ‘ব্যতিক্রম’ নয়, বরং পুরনো নোংরা রাজনীতিরই নতুন সংস্করণ বলেই মনে করছেন অনেকেই।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগে জন্ম নেওয়া এই দলটি শুরু থেকেই মাঠ দখল, মব সৃষ্টি, চাঁদাবাজি আর প্রভাব বিস্তারের খেলায় নেমেছে—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
অথচ মুখে তারা এখনো সততার বুলি আওড়ায়, যা এখন অনেকের কাছেই নিছক ভণ্ডামি ছাড়া কিছু নয়।
সবচেয়ে আলোচিত ইস্যুগুলোর একটি—দলটির শীর্ষ নেতা সার্জিস আলমের বিরুদ্ধে ওসমানীয় দালাল মোহাম্মদ হাতেমের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ গ্রহণের অভিযোগ। পরে সেটিকে ‘ফেরত’ দেওয়ার গল্প দাঁড় করানো হলেও প্রশ্ন থেকেই গেছে—এটা কি সত্যিই ভুল ছিল, নাকি ধরা পড়ে যাওয়ার পর নাটকীয় ইউ-টার্ন ?
এবার নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পশুর হাট, ঘাট ও বিভিন্ন টেন্ডারকে ঘিরে এনসিপির আসল চেহারা যেন একেবারে উন্মোচিত হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, দরপত্র কিনে প্রতিযোগিতায় নামার ভান করে শেষ মুহূর্তে মোটা অঙ্কের কমিশনের বিনিময়ে সরে দাঁড়ানোই এখন তাদের প্রধান কৌশল।
ফতুল্লার ১৩টি পশুর হাট নিয়ে সাম্প্রতিক সমঝোতা সেই অভিযোগকে আরও পোক্ত করেছে। জানা গেছে, দরপত্র জমা দেওয়ার আগেই টেবিলের নিচে ভাগাভাগির চুক্তি হয়।
১০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নিয়ে এনসিপির নেতারা সরে দাঁড়ায়—ফলে কোনো সংঘাত ছাড়াই পুরো প্রক্রিয়া ‘মসৃণভাবে’ সম্পন্ন হয়। প্রশ্ন হচ্ছে—এটা কি টেন্ডার, নাকি খোলামেলা কমিশন বাণিজ্য ?
এর আগেও ডিআইটি মাঠসহ একাধিক ইজারায় একই চিত্র দেখা গেছে। দরপত্র কেনা হয়, কিন্তু জমা দেওয়া হয় না—শেষ মুহূর্তে সমঝোতা। অর্থাৎ প্রতিযোগিতা নয়, দর কষাকষিই যেন আসল উদ্দেশ্য।
আর যেখানে এই ‘সমঝোতা’ হয়নি, সেখানে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ—বক্তাবলীর রাজাপুর খেয়াঘাট তার জ্বলন্ত উদাহরণ। এতে স্পষ্ট, এনসিপির রাজনীতি এখন আর আদর্শের নয়, বরং পুরোপুরি স্বার্থ আর অর্থের খেলায় পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ আরও ভয়াবহ। মাঠ পর্যায়ে এনসিপির কিছু নেতা প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে চাঁদা আদায় করছে, ব্যবসায়ীদের জিম্মি করছে, আর প্রভাব বিস্তার করছে নানা কৌশলে। অথচ কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নীরব—অথবা সবকিছু অস্বীকার করে দায় এড়ানোর চেষ্টায় ব্যস্ত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষায়,
“এনসিপি যদি এটাকেই ‘নতুন রাজনীতি’ বলে, তাহলে পুরনোদের সঙ্গে তাদের পার্থক্য কোথায় ?”
সবশেষে প্রশ্নটা আর লুকানো যাচ্ছে না—
এনসিপি কি সত্যিই পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি, নাকি শুধুই ক্ষমতা ও অর্থের নতুন সিন্ডিকেট ?
নারায়ণগঞ্জে যা ঘটছে, তা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—বরং একটি বড় বাস্তবতার ভয়ংকর ইঙ্গিত।




