ষ্টাফ রিপোর্টার:
নগরীর মন্ডলপাড়ায় অবস্থিত গনবিদ্যা নিকেতনে উন্মুক্ত বিশ^বিদ্যালয়ের যে কেন্দ্রটি রয়েছে সেটার শিক্ষা ব্যবস্থা ও মুল শিক্ষকের বেতন স্কুলটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো.মঈনউদ্দিন এবং সহকারী প্রধান শিক্ষক মো.দেলোয়ার হোসেন উভয়ে মিলে তুলে নেয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
উন্মুক্ত বিদ্যালয়ের মুল শিক্ষক হলেন ফাতেমা উর্মী। অথচ তাকে বাদ দিয়েই অযোগ্য শিক্ষক দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বছর যাবত অথচ উন্মুক্ত বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য যোগ্যতা সম্পন্ন শিক্ষকের প্রয়োজন হলেও তা কোনভাবেই তোয়াক্কা করেনি গনবিদ্যা নিকতনের দুই শিক্ষক। আর তাদের এরুপ অশিক্ষা আচরনের জন্য সুশিক্ষা বঞ্চিত হচ্ছে অসংখ্য শিক্ষার্থী।
ব্যাপক অনুসন্ধানে জানা যায় যে,তৃতীয় শ্রেনীর কর্মচারী সুজনকে দিয়ে তারা শিক্ষকের বেতনের সীট তৈরী করছে এমনকি ক্লাস রুটিনও তৈরী করাচ্ছে তাকে দিয়ে। যোগ্যতা সম্পন্ন শিক্ষক ফাতেমা উর্মীর পরিবর্তে অনভিজ্ঞ শিক্ষক দিয়ে করানো হচ্ছে ক্লাস। তবে স্যালারী সিট হচ্ছে উর্মী ম্যাডামের নামে। বেতনের সিট দেভখাল করছে সহকারী প্রধান শিক্ষক মো.দেলোয়ার হোসেন। আর বেতন সিটের চুড়ান্ত অনুমোদন দিচ্ছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মঈনউদ্দিন। এ বিষয়টি সত্যতাও প্রমানিত হয়েছে মুল শিক্ষক ফাতেমা উর্মীর কাছে।
গনবিদ্যা স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো.মঈনউদ্দিন এবং সহকারী প্রধান শিক্ষক মো.দেলোয়ার হোসেন এর এরুপ অনৈতিক কর্মকান্ডের বিষয়টি পুরোপুরি ফামেতা উর্মীর কানে আসলে তিনি নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় উক্ত দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের উভয়কে থানায় ডেকে আনা হয়। পরে থানা পুলিশের একটি সাদা কাগজে মুচলেকা দিয়ে আসেন মঈনউদ্দিন। তারা সেখানে এও বলে আসেন যে,এরুপ ঘটনার পুনরাভিত্তি আর ঘটবেনা। যদি ঘটে তাহলে পরবর্তীতে উপযুক্ত প্রমানাদিসহ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারবে ফাতেমা উর্মী।
এ বিষয়ে থানার পাশাপাশি স্কুলের একটি প্যাডেও মুচলেকা সম্পাদন করেন স্কুলটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো.মঈনউদ্দিন।
এছাড়াও একাধিক সুত্রে জানা যায় যে,ক্লাস চলাকালীন অবস্থায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের রুমে বসে অন্য শিক্ষার্থীদেরকে কোচিং ক্লাস করান। এবং প্রধান শিক্ষক মঈনউদ্দিন স্কুল চলাকালীন সময় অতিবাহিত হওয়ার আগেই স্কুল ছেড়ে বাড়িতে চলে যান এবং এলাকাতে থাকা তার একটি মনোহরী দোকান খুলে তা পরিচালনা করেন।
প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের এরুপ অর্থলোভী মনোভাবের ফলে স্কুলে থাকা প্রতিটি শিক্ষার্থী কতটুকু শিক্ষা অর্জন করতে পারছে সেটাই এখন প্রশ্ন হয়ে দাড়িয়েছে অভিভাবকদের কাছে। সুশিক্ষার পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের অর্থের ঢাল হিসেবে ব্যবসা করছে স্কুলের এ দুইশিক্ষক।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,আমি একদিন গনবিদ্যা স্কুলে অডিটে গিয়ে শিক্ষক দেলোয়ারের কাছে জানতে চাওয়া হয় অত্র স্কুলে কেন শিক্ষার্থীর সংখ্যা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে,প্রতিত্তরে তিনি বলেন,এখানে একটি মেয়ে শিক্ষার্র্থী আত্মহত্যা করেছিলো যার ফলে দিনে দিনে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে আসছে। অন্যান্য বিষয় জানতে চাইলে দেলোয়ার হোসেন বলেন,এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মইনউদ্দিন স্যার ভালো বলতে পারবে।
গনবিদ্যা স্কুলে উন্মুক্ত বিশ^বিদ্যালয়ে শিক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াও উক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন জেগেছে শিক্ষার্থীসহ অভিভাবক মহলের। তাদের মতে,শিক্ষক যদি শিক্ষাদানের পরিবর্তে অর্থের প্রতি নজর বেশী দেয় তাহলে শিক্ষার্থী ধ্বংসের পাশাপাশি পুরো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ধ্বংস হওয়াটা শতভাগ নিশ্চিত। শিক্ষা ও বিদ্যালয়ের মান রক্ষার্থে গনবিদ্যা স্কুলের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মঈনউদ্দিন ও সহকারী প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনদের মত অযোগ্য নামধারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে অপসারন করে প্রতিষ্ঠানের সুনাম রক্ষা করা।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহল গনবিদ্যা স্কুলের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মঈনউদ্দিন ও সহকারী প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনকে দ্রুত অপসারনে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষা ও আইসিটি এবং জেলা শিক্ষা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেন।




