ষ্টাফ রিপোর্টার:
নারায়ণগঞ্জে আইনের শাসনের করুণ অবস্থা: অপহরণ, চাঁদাবাজি আর ভয়ের নগরীতে পরিণত হচ্ছে জনপদ আর স্থানীয়ভাবে ন্যায়বিচার না পাওয়ার ফলে নারায়ণগঞ্জের প্রেস ক্লাব ছেড়ে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করতে বাধ্য হচ্ছে ভুক্তভোগীরা। আর এ সকল বিষয়গুলো যেন আইনশৃঙ্খলার ভাঙনের জ্বলন্ত উদাহরণ
প্রাচ্যের ডান্ডি খ্যাত নারায়ণগঞ্জ একসময় শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জ এখন ক্রমেই রূপ নিচ্ছে ভয়ের জনপদে।
বিশেষ করে রাজনৈতিক প্রভাব, দলীয় পরিচয় আর দুর্বল আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার সুযোগে এখানে অপহরণ, চাঁদাবাজি ও হয়রানির অভিযোগ যেন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
তবে উদ্বেগজনক উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার সেহাচর তক্কারমাঠ এলাকার জমি ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন দিলুর অভিযোগ।
দেলুর মত এমন অনেকে স্থানীয় প্রশাসনের ওপর আস্থা হারিয়ে একজন ভুক্তভোগী যখন নিজের এলাকায় দাঁড়িয়ে কথা বলার সাহস পান না, তখন তাকে বাধ্য হয়ে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাব-এ গিয়ে সংবাদ সম্মেলন করতে হয় এটি শুধু একটি ব্যক্তিগত অভিযোগ নয়, বরং পুরো জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে।
গত বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের আকরাম খাঁ হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দেলোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, তাকে পুলিশ পরিচয়ে সাদা পোশাকধারী ব্যক্তিরা অপহরণ করে আটকে রাখে এবং পরবর্তীতে নগদ অর্থ ও চেক আদায় করে। তার ভাষ্যমতে, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন ফতুল্লা থানা কৃষকদলের আহবায়ক জুয়েল আরমান। তবে শুধু জুয়েল আরমানই নন তার মত এমন অনেক নেতাই স্থানীয় এক প্রভাবশালী বিএনপি নেতার প্রভাবে পুরো ফতুল্লা থানা এলাকাজুড়ে চালিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন অপরাধের স্বর্গরাজ্যে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২০ মে রাতে ফতুল্লার তক্কার মাঠ এলাকা থেকে তাকে তুলে নিয়ে প্রথমে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখা হয়।
পরে অন্যত্র নিয়ে গিয়ে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে হুমকি দিয়ে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। একপর্যায়ে জীবন বাঁচাতে তিনি আট লাখ টাকা দিতে বাধ্য হন যার মধ্যে নগদ তিন লাখ টাকা এবং পাঁচ লাখ টাকার একটি চেক ছিল।
এই ঘটনা আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে যখন জানা যায়, ভুক্তভোগী এর আগেও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় তিনি শেষ পর্যন্ত রাজধানীতে গিয়ে সংবাদ সম্মেলনের পথ বেছে নেন। এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে, স্থানীয় পর্যায়ে ন্যায়বিচারের পথ কতটা সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত জুয়েল আরমান অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, এটি একটি জমি লেনদেনসংক্রান্ত বিরোধ।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, দেলোয়ার হোসেন পূর্বে জমির বায়না হিসেবে অর্থ দিয়েছিলেন, যার একটি চেক পরবর্তীতে ডিজঅনার হয়। সেই বিরোধের জের ধরেই তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপহরণ ও চাঁদাবাজির অভিযোগ আনা হয়েছে।
তবে এখানে প্রশ্ন থেকে যায় যদি এটি শুধুই বাণিজ্যিক বিরোধ হয়ে থাকে, তাহলে কেন একজন ব্যক্তি নিজ এলাকায় বিচার না পেয়ে রাজধানীতে গিয়ে অভিযোগ তুলবেন ? কেন তিনি স্থানীয় থানায় গিয়ে নিরাপদ বোধ করেননি ?
বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় অপরাধের বিস্তার এবং প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। ফলে সাধারণ মানুষ দিন দিন আস্থা হারাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর।
বি:দ্র: দুই বছরেই আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে যাওয়া কৃষকদলের আহবায়ক জুয়েল আরমানের যাবতীয় তথ্য জানতে চোখ রাখুন জাগো নারায়ণগঞ্জ২৪.কমে।




