ষ্টাফ রিপোর্টার:
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে আশরাফুল ইসলাম তৌকির নামে এক ব্যবসায়ীর ওপর নৃশংস হামলার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও আসামীদের ধরতে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ। আসামীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করার পাশাপাশি তাঁর সঙ্গে থাকা দুটি দামি স্মার্টফোন ও নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
গুরুতর আহত তৌকির বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনার সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও মামলার কোনো আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুলাই গভীর রাতে পোস্ট অফিস মোড়সংলগ্ন রণজিৎ ফার্মেসির সামনে তৌকিরকে বহনকারী একটি অটোরিকশার সঙ্গে একটি ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় তিনি প্রতিবাদ জানালে সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে তাঁর ভাই অনিক ঘটনাস্থলে এসে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পরিস্থিতি শান্ত করেন।
তবে ওই ঘটনার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে হামলার অভিযোগ ওঠে ফতুল্লা ইউনিয়ন ৫ নং ওয়ার্ড যুবদল নেতা রাজু ও সৈকত রাজের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি তৌকিরকে একা পেয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা চাপাতি, ছেনি, লোহার রড ও কাঠের লাঠি দিয়ে তাঁর দুই পায়ে এলোপাতাড়ি কোপ দেয় এবং হাত ও পিঠে গুরুতর জখম করে।
হামলার পর অভিযুক্তরা তৌকিরের কাছ থেকে আনুমানিক ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি আইফোন ১৬ প্রো-ম্যাক্স, প্রায় ৪৭ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২১ আল্ট্রা এবং নগদ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ রয়েছে।
এ ঘটনায় আহতের মা আকলিমা বেগম বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৫-৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। নামীয় আসামিরা হলেন, সৈকত রাজ (৩৬), রাজু (৩৫), জাকির (৩৪) ও সাদ্দাম (৩৫)।
ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, মামলা দায়েরের পরও এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
তাদের দাবি, প্রধান আসামি সৈকত রাজ ফতুল্লা ইউনিয়ন যুবদল নেতা হওয়ায় প্রকাশ্যে চলাফেরা করলেও তাকে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না। একই সঙ্গে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য পরিবারকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে থানায় মামলা দায়ের করা হলে শুক্রবার রাতে ফতুল্লা ইউনিয়ন যুবদল নেতা আবদুল খালেক টিপুর নেতৃত্বে কয়েকজন যুবদল নেতা ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জের কক্ষে এসে যুবদল নেতা সৈকত রাজের বিরুদ্ধে মামলা নেয়া হয়েছে তাদেরকে না জানিয়ে এমন প্রশ্ন ওসি মাহবুব হোসেনকে জিজ্ঞেস করতে তিনি টিপুর উপর রেগে গিয়ে বলেন,আপনার রাজনীতিতে কোন ধারায় রয়েছে যে,আপনাদের নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা কিংবা অভিযোগ নিতে হলে আপনাদেরকে জানিয়ে করতে হবে। পরক্ষনে ওসির কথা শুনে চুপসে গিয়ে টিপু বলেন,আমরা ঘটনার পর তৌকিরের বাড়িতে গিয়ে ছিলাম এবং তার পরিবারের সাথে কথা বলেছি যে,বিষয়টি সামাজিকভাবে মিমাংশা করে দেয়া হবে। তারপরও কেন মামলা করা হলো সেটা বোধগম্য নয়।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো.আফতাবউদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান,ভাই আমিতো প্রতিদিনই আসামীদের ধরতে তাদের এলাকাতে যাচ্ছি কিন্তু কাউকেই পাচ্ছিনা। তবে দ্রুতই আসামীরা গ্রেফতার হবে।




