নিজস্ব প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক প্যানেল মেয়র আফরোজা আফসানা বিভা হাসানের বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় নেয়া নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক ও সমালোচনার ঝড় ওঠেছে। কারন ২০১১ সাল থেকে জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও নাসিকের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াত আইভীর সঙ্গে তার বেশ সখ্যতা ছিল। সেই সুবাধে বিভা হাসান আইভীর সঙ্গে সিটি কর্পোরেশনের নানা কর্মসূচি সহ আওয়ামীলীগের কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিলেন। বিভা হাসানের আওয়ামীপ্রীতির এমন দৃশ্যমান ঘটনার নানা ছবি প্রকাশ করতে গিয়ে উল্টো নিজের চরিত্র প্রকাশ পেয়েছে মহানগর মহিলা দলের সভাপতি দিলারা মাসুদ ময়নারও। দুই সাবেক কাউন্সিলরই ছিলেন আওয়ামীলীগের দুই মেরুর পক্ষ হয়ে। বিভার চেয়ে ময়না অনেকটা এক ধাপ এগিয়ে ছিলেন, শামীম ওসমান ও মেয়র আইভীর সঙ্গে সখ্যতা রেখে।
ঘটনা সূত্রে জানাগেছে, ২০১৩ সালে নারায়ণগঞ্জ-৫(সদর-বন্দর) আসনের উপ-নির্বাচনে প্রকাশ্যে সেলিম ওসমানের পক্ষে কাজ করেছেন দিলারা মাসুদ ময়না। নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে সেলিম ওসমানের নির্বাচনী প্রচারণা ও মতবিনিময় সভায় ময়না বক্তৃতাও দিয়েছেন সেলিম ওসমানের লাঙ্গল প্রতীকের পক্ষে ভোট চেয়ে। সেই থেকে সেই সময় ময়না শহর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক পদে থেকেও বিএনপির রাজনীতিতে নিস্ক্রিয় হয়ে নারায়ণগঞ্জ ক্লাব ভিত্তিক শামীম ওসমানের সহধর্মিনী লিপি ওসমানের সঙ্গে আওয়ামীলীগের রাজনীতি শুরু করে দেন। যার ফলশ্রুতিতে ২০১৪ সালে ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামীলীগের শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমানের নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেন ময়না। সেই ফাঁকে শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে বঙ্গবন্ধুর ছবি সম্বলিত মাস্ক পরে ব্যানার ফ্যাস্টুন হাতে র্যালীও করেন ময়না।
এখানে উল্লেখ্যযে, ২০১৩ সালে সদর আসনের উপ-নির্বাচনে দিলারা মাসুদ ময়না ও তার স্বামী বর্তমানে সদর থানা বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে সেলিম ওসমানের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর জন্য সিরিয়াল ধরে শিল্পপতি মোহাম্মদ আলীর কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা গ্রহণ করেন। মাঝে ২০১৬ সালের সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের পূর্বে আবারো কাউন্সিলর হতে আইভীর সঙ্গে সখ্যতা তৈরি করেন ময়না। ময়না যখন আওয়ামীলীগ থেকে কিছুই পায়নি তখন মহানগর মহিলা দলের কমিটিতে সভাপতি পদটি ভাগিয়ে নেন কেন্দ্রীয় নেত্রীদের ম্যানেজ করে।
অন্যদিকে ২০০৯ সালে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পূর্বে বিএনপির কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন না বিভা হাসান। ২০১১ সালে জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি সেলিনা হায়াত আইভীর ঘনিষ্ট সহচর হিসেবেই ভুমিকা রেখে আসছিলেন বিভা হাসান। আইভীর সুদৃষ্টির কারনেই সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র হোন তিনি। সেই বিভা হাসানকে দেখা গেলো বিএনপির মিছিলের সামনের সারিতে।
মেয়র আইভীর ঘনিষ্ট সহচর বিভা হাসানকে হ্টাত করে বিএনপির মিছিলের সামনের সারিতে দেখে বিএনপির রাজপথের নেতাকর্মীদের চোখ কপালে ওঠেছে। শুধু তাই নয়, ওই মিছিলে থাকা মহিলা দলের নেত্রীদের সরিয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন সমাবেশে এবং মিছিলেও ছিলেন একই ধাচে সামনের সারিতে। বিএনপির মিছিলে বিভা হাসানকে দেখে বিএনপির রাজপথের নেতাকর্মীরা প্রশ্ন রেখেছেন এই নারী নেত্রী কোথা থেকে এলো?
এই ঘটনায় বিভা হাসানকে বিএনপির সামনের সারিতে মিছিলে দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মহানগর যুবদলের ১নং সদস্য রাফিউদ্দীন রিয়াদ। তিনি সরাসরি বিভা হাসানকে আওয়ামীলীগের দোসর আখ্যায়িত করেছেন। সমাবেশের মাঝেই চরম ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে মহানগর মহিলা দলের সাবেক সভাপতি রাশিদা জামাল ও বর্তমান সভাপতি দিলারা মাসুদ ময়নাকে। আওয়ামীলীগ ঘরণার বিভা হাসানকে হটাত বিএনপির নেত্রী সেজে যাওয়াকে মেনে নিতে পারছেন না বিএনপির রাজপথের নেতাকর্মীরা। বিভা হাসান দীর্ঘদিন তিনি আওয়ামীলীগ নেত্রী আইভীর রীতিমত পিএসের মত দায়িত্ব পালন করেছেন। আইভীর সঙ্গে সর্বত্র যাতায়াত করতেন তিনি। কখনই বিএনপির কোনো কর্মসূচিতে ছিলেন না।
জানাগেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। ৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় বৃষ্টি উপেক্ষা করে মহানগরীর ২নং রেলগেট এলাকায় জড়ো হন দলটির নেতাকর্মীরা। মিছিলের নেতৃত্ব দিয়েছেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান ও সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু।
পরদিন ৭ আগস্ট শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে বিভা হাসান দাবি করেছেন, তিনি জনগণের স্বার্থে কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র হিসেবে মেয়র আইভীর সঙ্গে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেছেন। কিন্তু তিনি বর্তমানে বিএনপিতে সক্রিয় হলেও কেন তিনি সেই আওয়ামীলীগের আমলে বিএনপির কোনো মিটিং মিছিলে অংশগ্রহণ করেননি সেটার সঠিক উত্তর দেননি।




