সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি : সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী মার্কেট এলাকার মৃত পাগলা হাশেমের ৩ ছেলে জালাল উদ্দীন, সালাউদ্দীন ও আলাউদ্দীন। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ আমলে এ ৩ ভাই স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মতিউর রহমান মতি ও সিরাজ মন্ডলের অনুসারী হলেও গত ৫ আগষ্টে সরকার পতনের পর ভোলপাল্টে তারা ঝুঁকেছেন বিএনপির রাজনীতিতে। এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, এক সময়ের ক্রসফায়ারের আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী কথিত বিএনপি নেতা দর্জি সেলিমের শেল্টারের ৩ ভাই ঝুঁকেছেন মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজিতে। দর্জি সেলিমের শেল্টারে তারা গড়ে তুলেছেন বিশাল মাদকের নেটওয়ার্ক। এ ৩ মাদকব্যবসায়ীদের মধ্যে আলাউদ্দিন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা তাঁতীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও একাধিক বৈষম্য মামলার আসামি ও অপর ২ ভাই সালাউদ্দিন ও জালালউদ্দিন জড়িত ছিলেন যুবলীগের রাজনীতির সাথে। বর্তমানে তারা রমরমা মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজি করে লাখ লাখ টাকা আয় করছেন বলে জানা যায়। তাঁদের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ আদমজী সোনামিয়া মার্কেট এলাকার ব্যবসায়ীরা। সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী, কদমতলী এলাকার অন্যতম সমস্যা হলো মাদক। যার ভয়াল থাবা থেকে নিষ্কৃতি পাচ্ছেনা যুব সমাজও। এ অবস্থায় অভিভাবকরা তাদের সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছে। মাদকের নিষ্ঠুর যাত্রায় কেউ লাখ লাখ টাকার ব্যবসা ধ্বংস করে সর্বশান্ত হয়ে জড়িয়েছেন ভয়ংকর অপরাধ চক্রে। অনেক পরিবার তছনছও হয়ে গেছে। নাসিক ৬নং ওয়ার্ড ও ৭নং ওয়ার্ড আদমজীনগর কদমতলী, নতুন বাজার, আইলপাড়া, শিমুলপাড়া, মুনলাই পূর্ব পাশের চৌরাস্তা এলাকায়সহ চলছে এ ৩ ভাইয়ের নেতৃত্বে জমজমাট মাদক ব্যবসা। নির্বিকার রয়েছে আইনশৃংখলা বাহিনী। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যার পর পর্যন্ত মহল্লায় অভিনব কৌশলে সেবনকারীদের কাছে মরন নেশা ইয়াবা ও গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য পৌঁছে দিচ্ছে। একদিকে আইনশৃংখলা বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদাসিনতা অন্যদিকে একাধিক কর্মকর্তার সাথে মাদক ব্যবসায়ীদের সখ্যতা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, এলাকার সন্ত্রাসীদের ছত্রছায়ায় মাদকের বড় বড় চালান এনে নিরাপদে সরবারহ হচ্ছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। মাদকের চালানগুলো গ্রহন করে ভাগবন্টন করে নেয় মাদক ব্যবসায়ীরা রাত সাড়ে সাতটা থেকে ৯টার মধ্যে প্রতিটা মহল্লায় মাদক পৌঁছে দেয়। কারণ এ সময় পুলিশ ডিউটি পরিবর্তন করে। এ সময় রাস্তায় পুলিশের কোনো গাড়ি থাকে না। তার কারণে নির্ভয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা মাদক পৌঁছে দিতে কোনো বাধা অতিক্রম করে না বলে জানায় এলাকাবাসী। এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ বলছে, মাদক ও কিশোরগ্যাং দমনে আমরা নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। ইতিমধ্যে অনেককেই গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে প্রত্যেককেই আইনের আওতায় আনা হবে। কোনো অপরাধিকে ছাড় দেয়া হবেনা।




