ষ্টাফ রিপোর্টার:
সিদ্ধিরগঞ্জে কথিত বিএনপি নেতা কাইল্ল্যা আকতারের বেপরোয়া মাদক সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে আছে এলাকাবাসী। এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কাছে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ দিয়েও কোন লাভ হচ্ছেনা বলে অভিযোগ করছে তারা। এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, সিদ্ধিরগঞ্জের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আক্তারুজ্জামান মৃর্ধা ওরফে কাইল্যা আক্তার। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা কাইল্যা আকতারের বিরুদ্ধে নাসিক ৬নং ওয়ার্ডে মুনলাইট পূর্ব এলাকায় মাদক সম্রাট নাহিদ ও মান্নান বাহিনীকে শেল্টার দিয়ে বেপরোয়া চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, একসময় প্রয়াত আদমজী (সিবিএ) শ্রমিক নেতা হিসেবে পরিচিত আওয়ামীলীগের রেহান উদ্দিন রেহানের অফিস পিয়ন অর্থাৎ চা বানানো ও রুম ধোঁয়া মোছার কাজ দিয়ে তার কর্মজীবন শুরু করেন আক্তারুজ্জামান মৃধা। রেহান উদ্দিনের মৃত্যুর পর সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোতালেব এর তেল দোকানের লেবার ছিলেন। পরে গোদনাইল বার্মাষ্ট্যান্ডের আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার হোসেন মেহেদীর ভাই মিনারের তেলের গাড়ীর হেলপার হিসেবে যোগ দেন। পরে জুয়েলের সাথে যোগ দেন ছাত্রলীগে।বর্তমানে তিনি নাসিকের সাবেক কাউন্সিলর ও জেলা বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সভাপতি আওয়ামী লীগ নেতা সিরাজুল ইসলাম মন্ডলের পাম্পের ক্যাশিয়ার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
গত ৫ আগস্ট শেখ ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পলায়নের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আকতারের মতো হাইব্রিড লেবাস পাল্টে এখন বিএনপির হর্তাকর্তা সেজে গেছেন। যিনি জীবনের কর্মজীবনের শুরু থেকেই আওয়ামী লীগের নেতাদের সাথে মিছিল মিটিংয়ে জড়িত রয়েছেন।
অন্যদিকে, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে যেসব নেতাকর্মী রাজপথে ছিলেন, মামলা-হামলায় সর্বস্বান্ত হয়েছেন, পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, ঘরছাড়া হয়েছেন, তারা এখনও অসহায়। অনুসন্ধান ও এলাকাবাসীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আক্তারুজ্জামান মৃর্ধা নাসিক ৬নং ওয়ার্ডে বহিরাগত। তার বাড়ি রূপগঞ্জের বরপা এলাকায়। ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হাসিনা সরকারের পতনের পর ৬নং ওয়ার্ডে এসে থানা তাঁতীলীগের সহ-সভাপতি হান্নান প্রধানের অফিস দখল করে মাদকের আস্তানা গড়েন আক্তারুজ্জামান মৃধা।
এ অফিসে বসে হানিফ বেপারী, মনির, সুমন, সোহেল, পারভেজ ও কিশোরগ্যাং লিডার মাদক সম্রাট নাহিদ ও মান্নান প্রধান বাহিনীকে নিয়ে মাদক, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ শুরু করেন আক্তারুজ্জামান মৃধা। প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে একাধিক অভিযোগ ও ছাত্র হত্যা মামলায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে গ্রেপ্তার আতঙ্কে নাহিদ ও মান্নান গাঁ ঢাকা দিলে নাহিদ বাহিনীকে দিয়ে মাদক সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ করছেন আক্তারুজ্জামান মৃধা।
মুনলাইট গার্মেন্টস থেকেও তিনি মাসিক চাঁদা নিচ্ছেন বলে জানিয়েছে গার্মেন্টস সূত্র। এছাড়াও অটো রিকশার গ্যারেজে বিদ্যুৎ চুরির মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। এছাড়াও বিএনপি নেতা পরিচয়ে ইপিজেডের বৈধ ব্যবসায়ীদের ব্যবসা করতে হলে চাঁদার দাবিতে নানা হুমকি ধামকি দিচ্ছেন ভিজিটিং কার্ড পাঠিয়ে। স্থানীয়রা বলছেন, নাহিদ আত্মগোপনে থাকলেও আক্তারুজ্জামান মৃধার নির্দেশনা পালন করে আবার চলে যায়।
মাঝেমধ্যে নাহিদ কে এলাকায় দেখা যাচ্ছে। এতে তারা আরও অস্বস্তি ও আতঙ্কে বসবাস করছেন। নাম না প্রকাশের শর্তে অনেকেই বলেন, শীঘ্রই নাহিদের লাগাম টেনে না ধরলে সে আরও বেপরোয়া উঠবে কাইল্ল্যা আকতারের শেল্টারে। র্যাব ও পুলিশের কাছে এলাকাবাসী দাবি জানান, নাহিদ ও তার শেল্টারদাতা আকতারসহ তার বাহিনীকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা যাতে আর কেউ অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িত হওয়ার সাহস না পায়। তা না হলে নাসিক ৬ং ওয়ার্ডে শান্তি শৃঙ্খলা বিঘ্নসহ প্রাণহানীর শঙ্কা রয়েছে। প্রশাসনের সাথে সখ্যতা ও প্রভাবশালিরা এদের সাথে জড়িত থাকায় এবং এদের শেল্টার দেয়ায় কারণে তাদের বিরুদ্ধে এলাকাবাসি অসহায় হয়ে পড়ায় এখন জেলা পুলিশ সুপার ও র্যাবের হস্তক্ষেপের অপেক্ষায় আছে এলাকাবাসি।
এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি এমদাদুল হক বলেন, মাদক ব্যবসায়ী কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। সে যেই হোক। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে। এবার সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে মাদক চিরতরে নির্মূল করা হবে।




