নারায়ণগঞ্জ সোমবার | ৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৫শে রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি
  সর্বশেষঃ
সোনারগাঁয়ে পশু খাদ্য বিক্রয়ের লাইসেন্স না থাকায় ব্যবসায়ীকে জরিমানা
বন্দরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার ১৬
এরিবস স্কুলে শাসনের নামে বেত্রাঘাত? প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ
সীমান্ত পেরিয়ে মাদক ঢোকে, কোথায় কোথায় বসে বড় বাজার
সিদ্ধিরগঞ্জে ফের বেপরোয়া মাদকের গডফাদার কাইল্ল্যা আকতার !
বন্দরে উপ-সহকারী প্রকৌশলীর আলাদিনের চেরাগ! ৪০ হাজার টাকা বেতনে ৫০ কোটি টাকার সম্পদ!!
দেশব্যাপী ঊর্ধ্বমুখী অপরাধে উদ্বিগ্ন মানুষ
দ্য ওয়ালকে শেখ হাসিনা: আমার অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ সেলিম
ফতুল্লা সমবায় বাজারের উন্নয়ন কাজের তদারকিতে সেক্রেটারী-ক্যাশিয়ার!
শাস্তি পাওয়া কর্মকর্তাদের ফিরিয়ে আনার সংস্কৃতি কী বার্তা দিচ্ছে?
শুভ দাস হত্যা: ২৪ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতার ৩
নারায়ণগঞ্জ সদরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাপ্তাহিক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত
বন্দরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ৪
বক্তাবলীতে তানজিলা মৃত্যু নিয়ে রহস্য! বিএনপি নেতাদের উপস্থিতিতে দূর্ঘটনা বলে লিখিত অঙ্গীকার নামা
গঠনমুলক সংবাদ পরিবেশন দেশ ও জাতির জন্য মঙ্গলজনক – রিয়াদ মো.চৌধুরী
বিএনপি প্রতিশ্রুতির নামে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে: শফিকুর রহমান
অপসাংবাদিকতা বেশীদিন টিকে না – আবু আল ইউসুফ খান টিপু
ভূতুড়ে বিল ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে আবদুল জব্বারের তীব্র ক্ষোভ
সোনারগাঁয়ে গাঁজাসহ নারী মাদককারবারি গ্রেপ্তার
চাষাড়ায় গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার
বাংলাদেশে বড় ঋণ খেলাপিরা কেন শাস্তি পায় না?
জাকির খান ও তার কথিত পিএস এর বিরুদ্ধে মারিয়ার সংবাদ সম্মেলন
উদোড় পিন্ডি ভুদোড় ঘাড়ে চাপাচ্ছে মোহাম্মদ আলী মেম্বার!
সোনারগাঁয়ে ট্রাকের ধাক্কায় পোশাক শ্রমিকের মৃত্যু
সিদ্ধিরগঞ্জে রওশন আরা ডিগ্রি কলেজের পূনর্মিলনী অনুষ্ঠানের লোগো উন্মোচন
নারায়ণগঞ্জে গণঅধিকার পরিষদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
রূপগঞ্জে ২৬ মামলার পলাতক আসামি সবুজ গ্রেপ্তার
সিদ্ধিরগঞ্জে ডিএনডি লেকের পাড় থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার
জামালপুর-ঢাকা রুটে বাস চলাচল বন্ধ, ভোগান্তিতে যাত্রীরা
সোনারগাঁও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর চেইন ছিনতাই, নারী আটক
Next
Prev
প্রচ্ছদ
সীমান্ত পেরিয়ে মাদক ঢোকে, কোথায় কোথায় বসে বড় বাজার

সীমান্ত পেরিয়ে মাদক ঢোকে, কোথায় কোথায় বসে বড় বাজার

প্রকাশিতঃ

কঙ্বাজার থেকে তিন লাখ ইয়াবা নিয়ে একটি ল্যান্ডক্রুজার প্রাডো ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছিল গত ১৭ আগস্ট। চট্টগ্রামে এক দিন যাত্রাবিরতির পর গাড়িটি ওঠে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে। ঢাকায় পৌঁছানোর আগেই কুমিল্লায় গাড়িটি আটক করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। সুত্র: প্রথম আলো

গত পাঁচ মাসে শুধু কঙ্বাজারের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়েই ছয়টি বড় ঘটনায় প্রায় ২৭ লাখ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এর পাঁচটি চালানের গন্তব্যই ছিল ঢাকা। পরে ঢাকা থেকে বিভিন্ন এলাকায় এগুলো চলে যাওয়ার কথা ছিল বলে জানিয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর তথ্য বলছে, সীমান্ত হয়ে আসা মাদকের সবচেয়ে বড় চালান এখন মহানগর এলাকাগুলো হয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলে যাচ্ছে। আবার জনসংখ্যা বেশি হওয়ায় দেশের আটটি মহানগর এখন মাদকের বড় বাজার হয়ে উঠেছে। মহানগরগুলো হলো ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, গাজীপুর, রংপুর, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট।
প্রায় সব মাদকই সীমান্ত দিয়ে দেশে প্রবেশ করে। তাই সীমান্তবর্তী জেলায় মামলার চাপ বেশি।
সীমান্ত হয়ে দেশে মাদক প্রবেশের পর তা কীভাবে বড় শহরের দিকে ছড়িয়ে পড়ে, সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায় বিচারাধীন মামলার তথ্য বিশ্লেষণেও। আইন মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, দেশের আট মহানগরে ন্যূনতম পাঁচ বছর বা তার বেশি শাস্তিযোগ্যÑএমন গুরুতর মাদক মামলা বিচারাধীন রয়েছে ৪৭ হাজার ৯৪৮টি। দেশে এ ধরনের মোট বিচারাধীন মামলা আছে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৩৩৩টি। অর্থাৎ প্রায় ২৯ শতাংশ মামলাই হয়েছে আট মহানগরে।
এই মামলাগুলোর তথ্য বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, যেসব জেলা দিয়ে মাদক ঢোকে, দেশের ভেতরে তা পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ রুট এবং বড় বাজারের এলাকাগুলোতেই গুরুতর মাদক মামলার চাপ তুলনামূলক বেশি।
গত ৭ আগস্ট কঙ্বাজারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, ইয়াবাসহ মাদক চোরাচালানের অন্যতম রুট হিসেবে কঙ্বাজারের নাম সবার মুখে মুখে। সীমান্ত দিয়ে আসা এই ইয়াবা সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাতে দেশের যুবসমাজের বড় একটি অংশ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, দেশের মাদকের বড় অংশই সীমান্ত পার হয়ে আসে। মিয়ানমার সীমান্তবর্তী কঙ্বাজার ইয়াবা ও ক্রিস্টাল মেথ বা আইস প্রবেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। এই পথ ধরেই চলতি বছরের ১১ এপ্রিল নাফ নদীসংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় এক অভিযানেই বিজিবি ১০ লাখ ৫৯ হাজার ৪০০ ইয়াবা উদ্ধার করে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে গত বছর বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটি (বিএমইউ) ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিসার্চ অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্টস লিমিটেড (আরএমসিএল) একটি গবেষণা করে। এতে বলা হয়, দেশে অবৈধ মাদক ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৮১ লাখ ৯৫ হাজার, যা মোট জনসংখ্যার ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ; আর মাদকের পেছনে বছরে সেবনকারীরা বছরে আনুমানিক ৫৯ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করেন। গবেষণায় প্রায় ৯০ শতাংশ ব্যবহারকারী বলেছেন, মাদক সহজেই পাওয়া যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, দেশের মাদকের বড় অংশই সীমান্ত পার হয়ে আসে। মিয়ানমার সীমান্তবর্তী কঙ্বাজার ইয়াবা ও ক্রিস্টাল মেথ বা আইস প্রবেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। এই পথ ধরেই চলতি বছরের ১১ এপ্রিল নাফ নদীসংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় এক অভিযানেই বিজিবি ১০ লাখ ৫৯ হাজার ৪০০ ইয়াবা উদ্ধার করে। বিজিবির হিসাবে এক দিনে তাদের ইতিহাসে এটিই ছিল ইয়াবা জব্দের সবচেয়ে বড় ঘটনা। এর পরও কঙ্বাজারের উখিয়া, টেকনাফ ও রামু এলাকায় বড় চালান ধরা পড়েছে।
সীমান্ত থেকে নগর পর্যন্ত সরবরাহব্যবস্থা ঠেকাতে না পারলে কখনোই মাদক প্রতিরোধ করা যাবে না।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) সূত্র বলছে, কঙ্বাজারে মাদক ঢোকার পর চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় চালান যাওয়ার ঘটনা নিয়মিত পাওয়া যায়। অন্যদিকে ভারত সীমান্তবর্তী বিভিন্ন জেলা দিয়েও মাদক দেশে ঢোকে। এই প্রবাহের শেষ ভাগে বড় শহরগুলোতে বিক্রি ও ব্যবহারের বাজার তৈরি হচ্ছে।
ন্যূনতম পাঁচ বছর বা তার বেশি শাস্তিযোগ্য মাদক মামলার পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আট মহানগরের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর মাদক মামলা ঢাকা মহানগরে ২১ হাজার ৯২০টি। এরপর চট্টগ্রাম মহানগরে ১৫ হাজার ৪৪টি। শুধু এই দুই মহানগরেই মামলা রয়েছে ৩৬ হাজার ৯৬৪টি, যা আট মহানগরের মোট মামলার প্রায় ৭৭ শতাংশ।
এর বাইরে রাজশাহী মহানগরে ৪ হাজার ১২১, গাজীপুর মহানগরে ২ হাজার ৬২৩, রংপুর মহানগরে ১ হাজার ২১৮, খুলনা মহানগরে ১ হাজার ১৮৭, বরিশাল মহানগরে ১ হাজার ২১ এবং সিলেট মহানগরে ৮১৪টি গুরুতর মাদক মামলা বিচারাধীন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, বড় শহরে মাদকের বাজার তৈরির কয়েকটি সুবিধা পাচারকারীরা কাজে লাগায়। বিপুল জনসংখ্যার মধ্যে ক্রেতা বেশি, পরিবহনব্যবস্থা বিস্তৃত, ভাড়া বাসা ও অস্থায়ী আবাসে মাদক রাখা তুলনামূলক সহজ। এ ছাড়া সড়ক, নৌ ও রেল যোগাযোগ ব্যবহার করে দ্রুত এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় মাদকের চালান সরানো যায়।
আবার জনসংখ্যা বেশি হওয়ায় দেশের আটটি মহানগর এখন মাদকের বড় বাজার হয়ে উঠেছে। মহানগরগুলো হলো ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, গাজীপুর, রংপুর, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট।
সীমান্ত এলাকা থেকে মহানগরে যাওয়ার পথের জেলাগুলোতেও অন্যান্য জেলা থেকে মামলার সংখ্যা বেশি। যেমন কঙ্বাজার জেলার বিচারাধীন গুরুতর মাদক মামলার সংখ্যাও দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ ১২ হাজার ৬০০টি। কঙ্বাজারের পর বড় চালান পরিবহনের পথে চট্টগ্রামের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ।
১০ এপ্রিল কঙ্বাজার সীমান্ত থেকে আসা মাছ ধরার ট্রলারে পাঁচ লাখ ইয়াবা চট্টগ্রাম নগরে ধরা পড়ে। এই মহানগরটি ন্যূনতম পাঁচ বছর বা তার বেশি শাস্তিযোগ্য মাদক মামলার দিক থেকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এরপর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ রুট কুমিল্লা। কঙ্বাজার-চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লা হয়েই ঢাকায় যেতে হয়।
আগস্টে কঙ্বাজার থেকে ঢাকাগামী তিন লাখ ইয়াবার চালান সেখানে ধরা পড়ে। এর আগেও জুনে কুমিল্লায় গাড়িতে পরিবহনের সময় ১ লাখ ৬০ হাজার ইয়াবার আরেকটি বড় চালান জব্দের ঘটনা রয়েছে। কুমিল্লায় বিচারাধীন গুরুতর মাদক মামলা ১০ হাজার ৪৬৪টি।
নারায়ণগঞ্জের অবস্থানও এই পরিবহনব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলে। ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক এবং নৌপথের কারণে বিভিন্ন এলাকা থেকে রাজধানীমুখী মাদক পরিবহনে নারায়ণগঞ্জ ব্যবহারের ঘটনা রয়েছে। সেখানে বিচারাধীন গুরুতর মাদক মামলা রয়েছে ৭ হাজার ৪১১টি।
আগস্টে কঙ্বাজার থেকে ঢাকাগামী তিন লাখ ইয়াবার চালান সেখানে ধরা পড়ে। এর আগেও জুনে কুমিল্লায় গাড়িতে পরিবহনের সময় ১ লাখ ৬০ হাজার ইয়াবার আরেকটি বড় চালান জব্দের ঘটনা রয়েছে। কুমিল্লায় বিচারাধীন গুরুতর মাদক মামলা ১০ হাজার ৪৬৪টি।
অন্যদিকে ভারত সীমান্তবর্তী ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রয়েছে ৫ হাজার ৯২৭ এবং রাজশাহী জেলায় ৫ হাজার ১২৬টি মামলা। দিনাজপুরে এই সংখ্যা ৪ হাজার ১৪৮টি।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হাসান মারুফ প্রথম আলোকে বলেন, প্রায় সব মাদকই বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে দেশে প্রবেশ করে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতাও এসব এলাকায় বেশি থাকে। বড় বড় চালানও তাই ধরা পড়ে বেশি। তাই সীমান্তবর্তী জেলায় মামলার চাপ স্বাভাবিকভাবেই বেশি থাকে।
মাদক বিক্রি হয় খুপরিতে, টাকা যায় ‘বড় ভাইদের’ পকেটে
ঢাকায় মামলা বেশির কারণ উল্লেখ করে হাসান মারুফ বলেন, ঢাকা বা বড় শহরে ভাসমান মানুষ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তুলনামূলক বেশি থাকে। মাদকসেবীর সংখ্যাও থাকে বেশি। সীমান্ত দিয়ে মাদক ঢ়ুকলেও বড় বাজার হিসেবে শেষ পর্যন্ত ঢাকা শহরের নামই আসে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্র বলছে, দেশের ভেতর দিয়ে যত মাদক চোরাচালান হয়, এর সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ উদ্ধার হয়। অর্থাৎ দেশে আসা ৮০ শতাংশ মাদক উদ্ধার করা সম্ভব হয় না।
প্রায় সব মাদকই বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে দেশে প্রবেশ করে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতাও এসব এলাকায় বেশি থাকে। বড় বড় চালানও তাই ধরা পড়ে বেশি। তাই সীমান্তবর্তী জেলায় মামলার চাপ স্বাভাবিকভাবেই বেশি থাকে।
২২ ট্রাইব্যুনালে যাবে লক্ষাধিক মামলা
৩ সেপ্টেম্বর ন্যূনতম পাঁচ বছর বা তার বেশি শাস্তিযোগ্য মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে ১০ জেলা ও মহানগর এলাকার জন্য ২২টি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছে সরকার। আইন মন্ত্রণালয়ের ৩ সেপ্টেম্বরের প্রজ্ঞাপনে এসব ট্রাইব্যুনালের ভৌগোলিক সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে ন্যূনতম পাঁচ বছর বা তার বেশি মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় চলমান মাদক মামলাগুলো সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হবে। যে পর্যায়ে মামলা রয়েছে, সেই পর্যায় থেকেই ট্রাইব্যুনালে বিচার চলবে।
আইন মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, এসব এলাকার বিচারাধীন গুরুতর মামলা প্রায় ১ লাখ ২ হাজার ৫৪০টি। অর্থাৎ এ ধরনের মাদক মামলার প্রায় ৬২ শতাংশ নতুন ট্রাইব্যুনালে যাবে।
ঢাকা জেলার জন্য একটি এবং ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন থানার জন্য চারটি ট্রাইব্যুনাল করা হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলার জন্য একটি এবং চট্টগ্রাম মহানগরের জন্য তিনটি। কঙ্বাজারে তিনটি, নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লায় দুটি করে এবং রাজশাহী জেলা ও মহানগরের জন্য দুটি ট্রাইব্যুনাল রয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া, বগুড়া, দিনাজপুর ও যশোরে একটি করে ট্রাইব্যুনাল করা হয়েছে।
আইন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, যেখানে মাদকের মামলা বেশি এবং বিস্তার বেশি ট্রাইব্যুনাল করার ক্ষেত্রে সেই এলাকাগুলোকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ ট্রাইব্যুনাল গঠনেও মহানগর ও সীমান্তবর্তী কয়েকটি এলাকা প্রাধান্য পেয়েছে।
ঢাকা জেলার জন্য একটি এবং ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন থানার জন্য চারটি ট্রাইব্যুনাল করা হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলার জন্য একটি এবং চট্টগ্রাম মহানগরের জন্য তিনটি।
আইনে ১৩৫ কার্যদিবস, বাস্তবে ১০ বছর
আইন অনুযায়ী অবশ্য মাদক মামলার বিচার বছরের পর বছর চলার কথা নয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৫১ ধারায় বলা হয়েছে, বিচারের জন্য মামলা পাওয়ার পর ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার শেষ করতে হবে। অনিবার্য কারণে তা সম্ভব না হলে কারণ লিখে আরও ৩০ কার্যদিবস সময় নেওয়া যাবে। এরপরও যুক্তিসংগত কারণে বিচার শেষ না হলে সর্বশেষ আরও ১৫ কার্যদিবস সময় বাড়ানো যাবে।
অর্থাৎ মোট ১৩৫ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার শেষ করার আইনি সময়সীমা রয়েছে। অতিরিক্ত সময় নেওয়ার কারণ লিখিতভাবে সুপ্রিম কোর্টকে জানানো এবং সরকারের কাছে তার অনুলিপি পাঠানোর বিধানও রয়েছে। তবে বাস্তবে পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন।
বিচার পর্যায়ে সাক্ষীর অনুপস্থিতি, তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য দিতে না আসা, আলামত উপস্থাপনে সমস্যা, রাষ্ট্রপক্ষের প্রস্তুতির ঘাটতি এবং বিচারকের স্বল্পতার কারণে আরেক দফা দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়। এসব কারণেই আইনে সময় বেঁধে দিলেই দ্রুত বিচার নিশ্চিত হচ্ছে না। এতে মাদকের বাজার আরও বড় হচ্ছে।
উদাহরণ হিসেবে চট্টগ্রামের একটি মামলার কথা বলা যায়। চট্টগ্রামে ২০১৬ সালে করা একটি মাদক মামলায় মো. রমজান আলীকে আসামি করা হয়েছিল। মামলাটি প্রায় ১০ বছর ধরে চলে। সাক্ষীরা আদালতে না আসায় তা দীর্ঘদিন সাক্ষ্য গ্রহণ পর্যায়েই আটকে ছিল। শেষ পর্যন্ত চলতি বছরের ৫ জুন আদালত তাঁকে খালাস দেন। এই সময়ে বিভিন্ন মেয়াদে রমজানকে কারাগারেও থাকতে হয়েছে।
একদিকে আইনে ১৩৫ কার্যদিবস, অন্যদিকে একটি মামলা শেষ হতে সময় লেগেছে প্রায় ১০ বছর। আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, মামলার তদন্ত শেষ করা ও অভিযোগপত্র দেওয়ায় বিলম্ব হচ্ছে। এরপর বিচার পর্যায়ে সাক্ষীর অনুপস্থিতি, তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য দিতে না আসা, আলামত উপস্থাপনে সমস্যা, রাষ্ট্রপক্ষের প্রস্তুতির ঘাটতি এবং বিচারকের স্বল্পতার কারণে আরেক দফা দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়। এসব কারণেই আইনে সময় বেঁধে দিলেই দ্রুত বিচার নিশ্চিত হচ্ছে না। এতে মাদকের বাজার আরও বড় হচ্ছে।
সরবরাহব্যবস্থা ঠেকাতে হবে
দেশে মাদকদ্রব্যের বিস্তারের গতিপ্রকৃতি নিয়ে কাজ করেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিভাগের পরিচালক ইকবাল মাসুদ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে মাদকের বড় ভোক্তাশ্রেণি তৈরি হয়েছে। টেকনাফসহ সীমান্ত দিয়ে আসা মাদক নানা পথে এসব শহরে পৌঁছাচ্ছে। কোনো একটি সীমান্তে কড়াকড়ি হলে পাচারকারীরা রুট বদলে অন্য সীমান্ত ব্যবহার করছে। বাংলাদেশকেও কখনো ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সীমান্ত থেকে নগর পর্যন্ত এই সরবরাহব্যবস্থা ঠেকাতে না পারলে কখনোই মাদক প্রতিরোধ করা যাবে না।

এ সম্পর্কিত আরো খবর

সম্পাদক মন্ডলীঃ

মোঃ শহীদুল্লাহ রাসেল

প্রধান নির্বাহীঃ

মোঃ রফিকুল্লাহ রিপন

সতর্কীকরণঃ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি
অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও
প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
সকল স্বত্ব
www.jagonarayanganj24.com
কর্তৃক সংরক্ষিত
Copyright © 2024

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ

বনানী সিনেমা হল মার্কেট
পঞ্চবটী ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ
ফোন নম্বরঃ ০১৯২১৩৮৮৭৯১, ০১৯৭৬৫৪১৩১৮
ইমেইলঃ jagonarayanganj24@gmail.com

Website Design & Developed By
MD Fahim Haque
<Power Coder/>
www.mdfahim.com
Web Solution – Since 2009

error: Content is protected !!