ষ্টাফ রিপোর্টার:
চাকরি শুরু অফিসের ফাইল টানাটানি দিয়ে। মাস শেষে বেতন ৪০ হাজার টাকা। সেই মানুষটাই ২৪ বছরে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও ফেনীতে গড়েছেন বাড়ি, ফ্ল্যাট, মার্কেট আর শত শত শতক জমির সাম্রাজ্য। নাম – মিজানুর রহমান, বর্তমানে বন্দর উপজেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী।
অভিযোগ জমা পড়েছে দুদকে। প্রশ্ন উঠেছে – একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী কীভাবে অর্ধশত কোটি টাকার মালিক?
২০০০ সালে ক্লার্ক, ২০২৪ সালে প্রভাবশালী প্রকৌশলী
তথ্য বলছে, ২০০০ সালে চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলায় অফিস সহকারী হিসেবে যোগ দেন মিজানুর। দীর্ঘ সময় ছিলেন সীতাকুণ্ডে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তৎকালীন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের ঘনিষ্ঠতার সুযোগে তিনি ২৪ বছর একই বেল্টে থেকে গেছেন। যতবার বদলির অর্ডার এসেছে, ততবার প্রভাব খাটিয়ে তা বাতিল করিয়েছেন।
মাঝখানে দুর্নীতির দায়ে একবার চাকরিচ্যুতও হয়েছিলেন। কিন্তু রাজনৈতিক তদবিরে আবার চাকরিতে ফিরে আসেন। ২০২৪ সালের আগস্টে সরকার পতনের পর তাকে ভোলার মনপুরায় বদলি করা হয়, কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই অদৃশ্য শক্তিতে তিনি চলে আসেন নারায়ণগঞ্জের বন্দরে।
ফাইল আটকে টাকা আদায়ের অভিযোগ
মীরসরাইয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “তার টেবিলে ফাইল গেলে নির্দিষ্ট হারে চাঁদা দিতে হতো। চাঁদা ছাড়া ফাইল ছাড়তেনই না।”
ভুক্তভোগী আবুল কালাম বলেন, “উনি টাকা ছাড়া কিছু বোঝেন না। মন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে দিনের পর দিন আখের গুছিয়েছেন।”
কাগজে-কলমে যে সম্পদের হিসাব
অভিযোগপত্র ও সরেজমিন অনুসন্ধানে যে সম্পদের তালিকা এসেছে:
ডেমরা, রসুলনগরে: ৫ তলা ভবন, দাম সাড়ে ৬ কোটি টাকা
ঢাকায় স্ত্রীর নামে: ১৭৫০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট, ৮০ লাখ টাকা
শপিং কমপ্লেঙ্ েবিনিয়োগ: ১ কোটি ২০ লাখ টাকার শেয়ার
ফেনী পরশুরামে: ১ কোটি ৮০ লাখ টাকার ৩ তলা বাড়ি
একই এলাকায়: ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার মার্কেট
কৃষিজমি: ৪৫০ শতাংশ, মূল্য প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ
অভিযোগকারীদের দাবি, এর বাইরেও নামে-বেনামে আরও কয়েক কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে।
অভিযুক্তের দাবি ও প্রশাসনের অবস্থান
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মিজানুর রহমানের মুঠোফোন নাম্বার ০১৭৯১২৩২৮@@ কল করা হলে এক মহিলা ফোন রিসিভ করে স্ত্রীর পরিচয় দেন। অপর একটি নাম্বার ০১৯২৩২৮৫৬@@ নাম্বারে ফোন দিয়ে বোন জামাই পরিচয় দিলেও নাম না বলে বলেন,জাগো ফাগো দিয়ে কিছু হবে না। দূর্নীতি দমন কমিশন আছে। পরে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।
এ ব্যাপারে বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিবানী সরকার বলেন, “যদি কোনো কর্মকর্তা অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন করে থাকেন, তদন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এখন দেখার বিষয়, দুদকের টেবিলে পড়ে থাকা এই অভিযোগ কতদিনে আলোর মুখ দেখে। নাকি বদলি আর তদবিরের ফাঁক গলে আবারও পার পেয়ে যাবেন এই আলোচিত উপ-সহকারী প্রকৌশলী।




