নারায়ণগঞ্জ শুক্রবার | ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১লা রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি
  সর্বশেষঃ
গ্যাস সরবরাহ ও ফিলিং স্টেশনের দাবিতে জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ
রূপগঞ্জে ছানাউল্লাহ হত্যা মামলায় আসামির যাবজ্জীবন
আরও এক সপ্তাহ চলতে পারে গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট
সোনারগাঁয়ে মসজিদের দেয়াল ভেঙ্গে ফেললো ভূমিদস্যু জাহের মোল্লা গং
ফতুল্লায় ব্যবসায়ীর ওপর হামলা, ছুরিকাঘাত ও গুলি বর্ষণের অভিযোগ
কাঁচপুরে বিদেশি ওয়ান শুটার গান উদ্ধার
সিদ্ধিরগঞ্জে স্বামীর বিশেষ অঙ্গ কাটায় স্ত্রী আটক
ফতুল্লা চাঁদনী হাউজিংয়ে পাগলা হামিদের ক্যাডার বাহিনী বেপরোয়া।
বন্দরে র‍্যাব ও পুলিশের পৃথক অভিযানে হত্যা ও ধর্ষণ মামলার আসামিসহ গ্রেপ্তার ৭
সোনারগাঁয়ে নজরুল বর্ষ উদযাপনের প্রস্তুতিমূলক সভা
( ফলোআপ )তিতাস গ্যাসে বহাল সিন্ডিকেট: সোনারগাঁও ও রূপগঞ্জে অবৈধ সংযোগে কোটি কোটি টাকার লুটপাট
শীতলক্ষ্যা নদীতে সক্রিয় তেল চোর সিন্ডিকেট
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি: পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুস-বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ,
ইসলামপুরে স্বাক্ষর জাল করে এতিম খানার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
সিদ্ধিরগঞ্জে সরকারী খাল দখলে আড়গাড়া,প্রতিবাদ করায় মারধর ও হুমকী!
তিতাস গ্যাসে বহাল সিন্ডিকেট: সোনারগাঁও-রূপগঞ্জে অবৈধ সংযোগে কোটি কোটি টাকার লুটপাট
“টাকা নিয়ে আসো চেক নিয়ে যাও”
সোনারগাঁয়ে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে ৩ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা 
‘তোরাও পুড়াবি আয়, আমরাও পুড়াব’
ময়নার মুখে বঙ্গবন্ধু: বিভার মুখে আইভী বাবুর মিষ্টি! তারপরও এরা বিএনপি
বন্দরে গ্যাস বিস্ফোরণ: সবাই চলে গেল না ফেরার দেশে
এমপি বাবুর আস্থাভাজন জামান এখন আজাদ এমপির বলয়ে
আজমেরী ওসমানের ক্যাডারদের নিয়ন্ত্রণে চাঁদনী হাউজিংয়ের অপরাধ জগৎ
আজমেরী ওসমানের দুর্ধর্ষ বান্টি এখন খাঁনের ছায়াতলে :
সদরের রাস্তা ও স্কুল পরিদর্শন ও শিক্ষার্থীদের মাঝে উপহার বিতরনে ইউএনও
বন্দরে গ্যাস বিস্ফোরন:ছেলের পর চলে গেলেন মা, মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন বাবা
দল বা সরকারের কাউকে বিশ্বাস করতেন না হাসিনা
নাসিকে অন্তর্ভুক্ত না হতে গোগনগর ইউনিয়ন বাসীর মানববন্ধন
রূপগঞ্জে পিকনিক ট্রলারে মাদক ও নারী নিয়ে ফুর্তি, ইউপি সদস্যসহ গ্রেফতার ২০
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি কী দায়িত্ব পালন করেন, তার ক্ষমতা কতটুকু?
Next
Prev
প্রচ্ছদ
আরও এক সপ্তাহ চলতে পারে গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট

আরও এক সপ্তাহ চলতে পারে গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট

প্রকাশিতঃ

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও কারিগরি সমস্যার কারণে মহেশখালীর দুটি এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ প্রায় ৬০ শতাংশ কমে গেছে। এর সঙ্গে কয়লা সংকটে কয়েকটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। ভারত থেকেও বিদ্যুৎ আমদানি কমেছে। সব মিলিয়ে বিদ্যুতের ঘাটতি বড় আকার নিয়েছে এবং উৎপাদনে ধস নেমেছে। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, সংকট কাটিয়ে উঠতে আরও অন্তত এক সপ্তাহ লাগতে পারে। ফলে এখনই বিদ্যুৎ ও গ্যাস পরিস্থিতির উন্নতির আশা কম।  সুত্র: সমকাল

গত কিছুদিনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, একদিকে বিদ্যুতের উৎপাদন কমেছে, অন্যদিকে চাহিদা বেড়েছে। লাইনের গ্যাস না পেয়ে বাসাবাড়িতে বৈদ্যুতিক চুলার ব্যবহার বেড়েছে। সেটিও বিদ্যুতের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। এ ছাড়া গ্যাসের অভাবে শিল্পকারখানায় নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় তারাও গ্রিডের বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করছে। এর সঙ্গে গরমে ফ্যান ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) ব্যবহার বাড়ায় বিদ্যুতের ওপর চাপ আরও বেড়েছে।

জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন সর্বোচ্চ লোডশেডিং ৩ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ভুগছেন গ্রামের মানুষ। কোনো কোনো এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় মাত্র ৫ থেকে ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে; কোথাও কোথাও ১৭ থেকে ২০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। তবে গ্রামের লোডশেডিং কমাতে এরই মধ্যে রাজধানীসহ শহরগুলোতেও লোডশেডিং শুরু হয়েছে।

লোডশেডিংয়ের কারণে মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি জায়গায় বিদ্যুৎ অফিসে হামলা, ভাঙচুর ও কর্মীদের অবরুদ্ধ করার ঘটনা ঘটেছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি নিজেদের অফিস, উপকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে চিঠি দিয়েছে।

তিন হাজার মেগাওয়াটের বেশি ঘাটতি
জাতীয় গ্রিডের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বুধবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি ঘণ্টাতেই দুই থেকে তিন হাজার মেগাওয়াটের ঘাটতি ছিল। বিকেল ৩টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৭ হাজার ২৩৭ মেগাওয়াট। উৎপাদন ও সরবরাহ হয়েছে ১৩ হাজার ৮৫৫ মেগাওয়াট। ঘাটতি ছিল তিন হাজার ৩৮২ মেগাওয়াট।

রাতে সংকট আরও বেশি। মঙ্গলবার রাত ২টায় চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৩৪৬ মেগাওয়াট। সরবরাহ হয়েছে ১৩ হাজার ২৩০ মেগাওয়াট। লোডশেডিং ছিল তিন হাজার ১১৬ মেগাওয়াট। রাত ৩টায় ঘাটতি ছিল তিন হাজার ৫৬ মেগাওয়াট এবং ভোর ৪টায় দুই হাজার ৯৫১ মেগাওয়াট। তবে সবচেয়ে বেশি ছিল রাত ১২টায় তিন হাজার ৫৯২ মেগাওয়াট।

এর আগের দিনগুলোতেও পরিস্থিতি ছিল একই রকম। সোমবার সর্বোচ্চ ঘাটতি ছিল রাত ১২টায়, লোডশেডিং হয়েছিল তিন হাজার ৫৩৭ মেগাওয়াট। রোববার রাত ১টায় এযাবৎকালের রেকর্ড লোডশেডিং হয়েছিল, তিন হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট।

পিডিবি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম সমকালকে বলেন, গত বছর একই সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ থেকে ১৬ হাজার মেগাওয়াট। এবার তা বেড়ে ১৮ থেকে ১৯ হাজার মেগাওয়াটে উঠেছে। গ্যাস না থাকায় অনেক কারখানা গ্রিডের বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে। বাসাবাড়িতেও লাইনের গ্যাস না থাকায় বৈদ্যুতিক চুলার ব্যবহার বেড়েছে। সর্বোচ্চ উৎপাদন বাড়াতে চেষ্টা চলছে।

গ্যাসে বড় ধাক্কা
বিদ্যুৎ উৎপাদনে সবচেয়ে বড় চাপ এসেছে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায়। মহেশখালীর সামিটের ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে বৈরী আবহাওয়ার কারণে নতুন কার্গো খালাস করা যাচ্ছে না। এতে টার্মিনালটি থেকে গ্যাস সরবরাহ নেমে এসেছে প্রায় ২০ কোটি ঘনফুটে।

এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালও বয়লার-সংক্রান্ত সমস্যায় পূর্ণ সক্ষমতায় চলছে না। সেখান থেকে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ২০ থেকে ২২ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে। স্বাভাবিক সময়ে এ টার্মিনাল থেকে ৫৫ থেকে ৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যায়।

দুটি টার্মিনাল মিলিয়ে জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ এখন প্রায় ৪১ কোটি ঘনফুট। আগামী ১৫ আগস্ট নতুন কার্গো না আসা পর্যন্ত সামিটের টার্মিনাল থেকে সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা কম। এর পর এক্সিলারেটের টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় চালাতে ৭২ ঘণ্টা বন্ধ রাখা হবে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ২২০ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে দেওয়া হয় ১০০ থেকে ১১০ কোটি ঘনফুট। এলএনজি সংকটের মধ্যে তা ৭০ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমেছিল। গতকাল তা বাড়িয়ে প্রায় ৮০ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পেট্রোবাংলার পরিচালক মো. শোয়েব। তবে পরে তা কমে ৭৫ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে।

দেশে গাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা ১২ হাজার ৪৭২ মেগাওয়াট। তবে গ্যাস সংকটের কারণে তা কমে দাঁড়িয়েছে তিন হাজার থেকে চার হাজার মেগাওয়াট।

সিএনজি স্টেশনে চাপ
পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় সিএনজি স্টেশনেও চাপ পড়েছে। কোথাও কোথাও কয়েক ঘণ্টা পুরোপুরি গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলার ৩৩টি সিএনজি স্টেশনের মধ্যে ৩০টিতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। বিভিন্ন পাম্পে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষায় থাকা চালক ও ফিলিং স্টেশনের কর্মীরা জানান, কয়েক দিন ধরে গ্যাস সংকটে ভুগছেন তারা।

রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতেও দেখা যাচ্ছে দীর্ঘ লাইন। কয়েক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়ানোর পর সামান্য টাকার গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে কোথাও কোথাও।

কয়লা আমদানিতে টান
গ্যাসের পাশাপাশি কয়লা সরবরাহেও সংকট তৈরি হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে কয়লা খালাসে বিঘ্ন ঘটেছে। এতে কয়েকটি বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না।

পটুয়াখালীর নোরিংকো বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ৩০০ মেগাওয়াট কমে এখন মিলছে এক হাজার মেগাওয়াটের কিছু বেশি। পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রেও ৫০০-৬০০ মেগাওয়াট কমে উৎপাদন হচ্ছে ৮০০-৯০০ মেগাওয়াট। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বিদ্যুৎ আমদানির ঘাটতি। জাতীয় গ্রিডের কারিগরি ও কয়লা সরবরাহ সমস্যার কারণে মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে ভারতের আদানি পাওয়ার থেকে ৪০০-৫০০ মেগাওয়াট কমে আমদানি হচ্ছে ৮০০-৯০০ মেগাওয়াট।

পল্লি এলাকায় দুর্ভোগ বেশি
দেশের প্রায় পাঁচ কোটি ২০ লাখ বিদ্যুৎ গ্রাহকের মধ্যে প্রায় চার কোটি গ্রাহক পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায়। মোট গ্রাহকের প্রায় ৮০ শতাংশই এসব সমিতির মাধ্যমে বিদ্যুৎ পান। উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রায় ৬০ শতাংশও এসব এলাকায় সরবরাহ করা হয়।

পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক দিন ধরে সমিতিগুলোর গড় চাহিদা ৮ থেকে ৯ হাজার মেগাওয়াট। এর বিপরীতে বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে ৫ থেকে ৬ হাজার মেগাওয়াট। অর্থাৎ, চাহিদার তুলনায় ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত কম বিদ্যুৎ পাচ্ছে সমিতিগুলো।

শহর-গ্রাম সর্বত্র একই চিত্র
জাতীয় গ্রিডের ঘাটতির চাপ পড়েছে রাজধানী ও আশপাশ এলাকাতেও। কেরানীগঞ্জে সকাল থেকে দফায় দফায় বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করেছে। গতকাল বেলা ১১টায় যাওয়ার পর দুপুর সাড়ে ১২টায় বিদ্যুৎ আসে। দুপুর ২টায় আবার গিয়ে ফেরে বিকেল ৪টায়। সন্ধ্যায় গিয়ে আসে রাত সাড়ে ৮টায়।

ঢাকার উত্তর বাড্ডার আবদুল্লাহবাগে গতকাল সকাল ৮টায় বিদ্যুৎ যাওয়ার পর ফিরেছে দুপুর ১২টার পর। পান্থপথেও দিনে এক থেকে দুই ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে।

শিল্পাঞ্চল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে দিনরাতে প্রায় ১২ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের অভিযোগ রয়েছে। আড়াইহাজারে তা ১৪ থেকে ১৬ ঘণ্টা। নরসিংদীর রায়পুরায় ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা এবং সাভারে ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। গাজীপুরের কাপাসিয়ায় ১০ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে।

উত্তরের জেলাগুলোতেও সংকট তীব্র। রংপুরের গ্রামাঞ্চলে ১৮ থেকে ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ রয়েছে। এতে বিদ্যুৎনির্ভর একটি কারখানার উৎপাদন এক সপ্তাহ ধরে বন্ধ। কুড়িগ্রামের রাজারহাটে প্রায় ১০ ঘণ্টা এবং দিনাজপুরের বীরগঞ্জে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে।

সিলেট নগরের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির গ্রামাঞ্চলের কোনো কোনো এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে। বরিশালের গ্রামাঞ্চলে প্রায় আট ঘণ্টা, কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টা এবং নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের অভিযোগ রয়েছে। ঝালকাঠিতে মঙ্গলবার ১১ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল সাত মেগাওয়াট।

শরীয়তপুরের জাজিরার পালেরচরে ২৪ ঘণ্টায় মাত্র পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে কোনো কোনো দিন ৯ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় লোডশেডিং হচ্ছে ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা।

গোপালগঞ্জে পরিস্থিতি আরও খারাপ। জেলা শহরে প্রায় ১৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকার কথা জানিয়েছেন গ্রাহকরা। সেখানে প্রায় ১৮ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে ৯ থেকে ১০ মেগাওয়াট।

নেত্রকোনায় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে যাওয়ায় গ্রাহক পর্যায়ে ৭২ থেকে ৭৯ শতাংশ পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। ১৫৭ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে বিভিন্ন সময়ে সরবরাহ মিলেছে প্রায় অর্ধেক।

ক্ষোভে হামলা, নিরাপত্তা চায় ৮০ সমিতি
দীর্ঘ লোডশেডিংয়ে ক্ষোভ এখন শুধু অভিযোগে সীমাবদ্ধ নেই। টাঙ্গাইল, দিনাজপুর ও পাবনায় বিদ্যুৎ অফিসে হামলা, ভাঙচুর ও কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অবরুদ্ধ করার ঘটনা ঘটেছে। গত সোমবার টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে জামুর্কি পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সাবস্টেশনে হামলা হয়। এতে লাইনম্যান আব্দুল লতিফ মারধরের শিকার হন।

মঙ্গলবার দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে ভাঙচুর করেন। গতকাল পাবনার ঈশ্বরদীতে অতিরিক্ত লোডশেডিং ও বেশি বিলের অভিযোগে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর এক মিটার রিডারকে প্রায় চার ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। লোডশেডিংয়ে অভিযোগে গতকাল মুন্সীগঞ্জের সদর উপজেলার পল্লী বিদ্যুতের অফিস ঘেরাও করেন কয়েক শ ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ।

নেত্রকোনায় কর্মকর্তাদের মোবাইল ফোনে গালাগাল, অফিস ঘেরাও ও ভাঙচুরের হুমকির অভিযোগ রয়েছে। এ অবস্থায় দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নিরাপত্তা চেয়েছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন। গতকাল আইজিপির কাছে পাঠানো চিঠিতে প্রতিটি অফিস, গ্রিড, উপকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরাপত্তা চাওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে রাত ৮টার মধ্যে মার্কেট বন্ধ
সংকটের মধ্যে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। গতকাল বিদ্যুৎ বিভাগের সমন্বয়-২ শাখা থেকে জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দেশের শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে। ১২ আগস্ট থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।

এর আগে এসব প্রতিষ্ঠান রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা রাখার সুযোগ ছিল। নতুন নির্দেশনায় সময় এক ঘণ্টা কমানো হয়েছে। একই সঙ্গে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সব ধরনের আলোকিত বিলবোর্ড বন্ধ করতে বলা হয়েছে। আলোকসজ্জাও পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হবে।

সমাধান কোন পথে
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে জনদুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে সরকার। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা কৌশল নিয়েছি। আশা করছি বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা হলেও উন্নতি হবে। গ্যাস ও এলএনজি সরবরাহ বাড়ানোর জন্য সম্ভাব্য সব বিকল্প নিয়ে কাজ করছি। মালয়েশিয়া থেকে অন্তত এক এলএনজি কার্গো আনার চেষ্টা চলছে। দেশীয় গ্যাস উৎপাদন রাতারাতি বাড়ানো সম্ভব নয়। তবে সংকট কমাতে আমাদের চেষ্টার কোনো ঘাটতি নেই।

তিনি আরও বলেন, বিগত সরকারগুলো কোনো মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ খুঁজে নেয়নি। তারা তাৎক্ষণিক সমাধানের পথে গেছে। ফলে যে সংকট একদিন না একদিন তৈরি হওয়ার কথা ছিল, সেটিই এখন সামনে এসেছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে এ সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে না। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিমের মতে, গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি আমদানি করতে হবে। কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। দ্রুত সৌরবিদ্যুতের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কোম্পানিকে যুক্ত করে গ্যাস অনুসন্ধানেও জোর দিতে হবে।

 

 

এ সম্পর্কিত আরো খবর

সম্পাদক মন্ডলীঃ

মোঃ শহীদুল্লাহ রাসেল

প্রধান নির্বাহীঃ

মোঃ রফিকুল্লাহ রিপন

সতর্কীকরণঃ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি
অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও
প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
সকল স্বত্ব
www.jagonarayanganj24.com
কর্তৃক সংরক্ষিত
Copyright © 2024

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ

বনানী সিনেমা হল মার্কেট
পঞ্চবটী ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ
ফোন নম্বরঃ ০১৯২১৩৮৮৭৯১, ০১৯৭৬৫৪১৩১৮
ইমেইলঃ jagonarayanganj24@gmail.com

Website Design & Developed By
MD Fahim Haque
<Power Coder/>
www.mdfahim.com
Web Solution – Since 2009

error: Content is protected !!