ষ্টাফ রিপোর্টার:
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এক ব্যবসায়ীর ওপর হামলা, চালককে চাকুর আঘাতে গুরুতর জখম এবং পিস্তল দিয়ে গুলি বর্ষণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী চক্রের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মোঃ সোহাগ গাজী (হযরত গাজী) বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় ১০-১২ জন অজ্ঞাতনামাসহ দুইজনের নাম উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেনÑ দৌলতপুর এলাকার ইব্রাহিম (৪০) ও হৃদয় (৩২)।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উত্তর রসুলপুর এলাকার ‘গাজী এন্টারপ্রাইজ’-এর মালিক মোঃ সোহাগ গাজী দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। গত ১৩ আগস্ট ২০২৬ সকাল অনুমান ০৬:০০ ঘটিকায় তার প্রতিষ্ঠানের ভ্যান চালক মোঃ ইমন (২২) কদমতলী থানাধীন এলাকা থেকে ১০,০০০ টাকা মূল্যের ২০ বস্তা সিমেন্ট ক্রয় করে ফতুল্লার উত্তর রসুলপুর দোকানের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
সকাল সাড়ে ৬টায় ফতুল্লা মডেল থানাধীন পশ্চিম রসুলপুর বাজারপুল সংলগ্ন রাস্তায় পৌঁছালে পূর্বে ওত পেতে থাকা ইব্রাহিম ও হৃদয়ের নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি সশস্ত্র দল ভ্যানের গতিরোধ করে। সন্ত্রাসীরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র প্রদর্শন করে ভ্যানটি থামায় এবং সিমেন্ট ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে ব্যবসায়ী সোহাগ গাজী, তার ম্যানেজার লিমন (২৬) ও কর্মচারী সেন্টু (২৬) ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্তরা তাদের গালাগালি করে।
প্রতিবাদ করলে ২ নং বিবাদী হৃদয় ক্ষিপ্ত হয়ে ভ্যান চালক ইমনকে এলোপাতাড়ি মারধর করে এবং হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো সুইচ গিয়ার চাকু দিয়ে তার ঘাড়ে সজোরে আঘাত করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। এ সময় ১ নং বিবাদী ইব্রাহিম তাদের লক্ষ্য করে পিস্তল দিয়ে গুলি বর্ষণ করে। কোনোক্রমে তারা গুলির হাত থেকে রক্ষা পান। পরবর্তীতে হামলাকারীরা পুলিশে খবর না দেওয়ার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ঘটনার পর আহত ভ্যান চালক ইমনকে উদ্ধার করে খানপুর ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। বর্তমানে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও তার কর্মচারীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ অভিযোগটি গ্রহণ করেছে এবং বিষয়টি তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।




