নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালামের রাজনৈতিক সচিব এবং মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউছার আশার বিরুদ্ধে আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের আশ্রয় প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ পুরনো হলেও আবারো তা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। আগে থেকে আলী হোসেন ও মনজুর হোসেন মেম্বারদের শেল্টার দেওয়ার অভিযোগ তো রয়েছেই। এবার নতুন করে তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ২৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ২৯নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও পুরান ঢাকার গডফাদার হাজী সেলিমের অন্যতম সহযোগি জাহাঙ্গীর আলম বাবুলকে আশ্রয় প্রশ্রয় দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয় এই ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ নেতার পক্ষ নিয়ে বন্দরের লাঙ্গলবন্দে আদালতের নিষেধাজ্ঞা জারি থাকা জমি জোড়পূর্বক দখলের পাঁয়তারা করে উচ্চ আদালতকেও বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, আলোচিত হাজী মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বাবুল ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের একাধিকবার নির্বাচিত কাউন্সিলর এবং তিনি একসময়ে ডিএসসিসির ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই সাথে তিনি ২৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছে। পুরান ঢাকার ইসলামবাগ ও এর আশেপাশের অঞ্চল তাঁর মূল রাজনৈতিক ও কার্যক্ষেত্র। তিনি স্থানীয় রাজনীতিতে গডাফাদার হাজী সেলিমের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকা দাপিয়ে বেড়িয়েছেন।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ঢাকা-৭ আসনের তৎকালীন এমপি হাজী মোহাম্মদ সেলিমের অন্যতম প্রধান সহযোগী ও তাঁর বিভিন্ন কার্যক্রমের অর্থবহ খাতের নিয়ন্ত্রক হিসেবে পরিচিত ছিলেন এই জাহাঙ্গীর আলম বাবুল। ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছেন বলে বনে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে স্বৈরাচার সরকারের পতনের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান। কিন্তু বর্তমানে তিনি নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট আবুল কালামের রাজনৈতিক সচিব ও বিএনপি নেতা আবুল কাউছার আশার ছত্রছায়ায় এখন তিনি পুরান ঢাকা ছেড়ে নারায়ণগঞ্জের বন্দরে তার আধিপত্য বিস্তার করতে শুরু করেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ক্ষমতার অপব্যবহার করে কামানো সেই অর্থের জোড়ে এখন তিনি আবুল কাউসার আশার ছায়াতলে এসেছেন।
শুধু হাজী মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বাবুল একাই নন, বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী ওসমান পরিবারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও দোসর হিসেবে পরিচিত আলী হোসেনও বর্তমানে একই নেতার সেল্টারে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সাধারণ নেতাকর্মী ও সচেতন মহলের মনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের প্রশ্ন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শের রাজনৈতিক দল বিএনপিতে থেকে কীভাবে স্বৈরাচারী শাসন আমলের সুবিধাভোগী ও দুর্নীতিবাজ এমন প্রভাবশালী ব্যক্তিরা পুনর্বাসিত হচ্ছেন? স্বৈরাচার সরকারের দোসর ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের এভাবে শেল্টার দেওয়া হলে দীর্ঘদিনের লড়াই-সংগ্রামে গড়া দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুন্ন হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।




