পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে আদমজী বিহারী কলোনি ও নতুন বাজার এলাকায় মাদকের স্বর্গরাজ্য গড়ে তুলেছেন কুখ্যাত মাদক ডিলার জাকির, ছনু ও জাকির। আদমজীর বিহারী কলোনি ও আশপাশের এলাকায় সাধারণ মাদক বিক্রেতা ও সেবীরা মাঝেমধ্যে গ্রেফতার হলেও এই তিন মূল হোতা রহস্যজনক কারণে এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাঁদের গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী, আঙুল উঠছে থানা পুলিশের কিছু অসাধু কর্মকর্তার দিকে। ইতোমধ্যে গত ১৩ এপ্রিল অভিযান চালিয়ে তাঁদের এক সহযোগী শাহাবুদ্দীন (৩৫) কে ১৫৫ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।অনুসন্ধানে জানা যায়, আদমজী সুমিলপাড়া বিহারী ক্যাম্প ৩নং বালুর মাঠ এলাকার রুস্তম মেকারের ছেলে জাহিদ একজন চিহ্নিত মাদক সম্রাট। তার বিরুদ্ধে অসংখ্য মাদকের মামলা রয়েছে। অন্যদিকে বিহারী কলোনির আতঙ্কের নাম জাকির ও ছনু।স্থানীয়দের অভিযোগ, বিহারি কলোনির পুরো মাদক সাম্রাজ্য এখন জাকির, জাহিদ, ছনুর নিয়ন্ত্রণে। বর্তমানে আদমজী বিহারী ক্যাম্পে তারা একাই একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করছে মাদকের। এলাকা বাসীর দাবি, বিহারী ক্যাম্প থেকে ছিঁচকে মাদক বিক্রেতারা গ্রেফতার হলেও জাহিদ, জাকির ও ছনু দিব্যি দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার কিছু অসাধু কর্মকর্তা তাঁদের কাছ থেকে প্রতিমাসে অনৈতিক আর্থিক সুবিধা নিয়ে তাদের গ্রেফতার এড়িয়ে চলছেন। কোনো এক অদৃশ্য কারণে তারা বারবার বেঁচে যাচ্ছে, যার ফলে অত্র এলাকায় মাদকের জয়জয়কার দিন দিন বেড়েই চলেছে। ভুক্তভোগীরা জানান, প্রশাসনও ম্যানেজ হওয়ায় কেউ কিছু বলতে সাহস পাচ্ছে না। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ইয়াবাসহ সব ধরনের মরণনেশা ছড়িয়ে দিয়ে যুবসমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে এই চক্রটি। প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ ছাড়া এই মাদক সাম্রাজ্য গুঁড়িয়ে দেওয়া সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সচেতন মহল। এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছি। আমি যোগদানের পর থেকে একাধিক অভিযান ও মামলা হয়েছে। অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তবে মাদক নির্মূলে এলাকাবাসীর সঠিক তথ্য ও সহযোগিতা প্রয়োজন। আদমজী বিহারী কলোনির সাধারণ মানুষ এখন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সরাসরি তদারকি ও এই তিন মাদক গডফাদারের দ্রুত গ্রেফতারের প্রহর গুনছেন বলে জানান ওসি।




