ষ্টাফ রিপোর্টার
নারায়নগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানার নতুন আইনপাড়ার ইটালী ভিলা নামক বাড়ীটি মারাত্মক ধসের আশঙ্কায় থাকলেও অদৃশ্য কারণে ব্যবস্থা নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। ইটালী ভিলা নামক বাড়ীটি অত্যন্ত অনিরাপদ, ঝুকিপূর্ণ ও বিপদজ্জনকভাবে নির্মান করায় যে কোন সময় ধসে পড়ার আতঙ্কা থাকায় রাজউকে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয়রা।
দ্রুত সময়ের মধ্যে এই ভবনটি ভেঙ্গে অপসারণের দাবী জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। ভবনটি অপসারন করা না হলে রানা প্লাজার মতো বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কায় রয়েছে স্থানীয়রা। স্থানীয়রা জানায়, বিগত চার মাসে রাতারাতি ভবনটি নির্মাণ করা হয়। এই ভবনের সামনে দিয়েও জনসাধারণ যাতায়াত করতে ভয় পায়। এছাড়াও, ভবনটি ধসে পড়লে আশেপাশের আরো কয়েকটি ভবনের মারাত্মক ক্ষতিসহ প্রানহানির আশঙ্কা করছে স্থানীয় এলাকাবাসী।
ঘটনার সূত্রপাতঃ
সিদ্ধিরগঞ্জের পাঠানটুলি নতুন আইলপাড়া এলাকায় ইটালী প্রবাসি দম্পত্তি শাহাবুদ্দিন ও মার্জিয়া খাতুন আলো বিগত ২০১৭ সালে রাজউক অনুমোদিত জনসাধারণের যাতায়াতের রাস্তার উপর বাড়ী নির্মাণের কাজ শুরু করেন। ওই সময় থেকেই এলাকাবাসির অভিযোগ ছিলো বাড়ি নির্মাণের সময় রাস্তার জন্য কোন জায়গা না ছেড়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে জোড়পুর্বক বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন ওই দম্পতি। এ বিষয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী ও গন্যমান্য ব্যক্তিবগের কোন অনুরোধ কর্ণপাত না করে রাস্তার উপরে বাড়ি নির্মাণের কাজ চালিয়ে যেতে থাকেন এই দম্পতি। পরবর্তীতে পিছনের বাড়ির মালিক বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার নজরুল ইসলাম ও নাজিমউদ্দীন রাজউকে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাজউক ওই দম্পতিকে নিজ দায়িত্বে নকশা বহির্ভূত স্থাপনা অপসারনের নির্দেশ দেয়। ওই দম্পতি বাড়িটির নকশা বহির্ভূত অংশ অপসারণ না করায় বিগত ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ সালে ইটালী ভিলা নামক বাড়ীতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযান চালায় রাজউক। এসময় বাড়ির নকশা বহির্ভূত অংশ ভাঙ্গাসহ রাস্তার উপরে থাকা একটি পিলারও ভেঙ্গে দেয় রাজউক। এই বাড়িটি যাতে দুই তলার উপরে করতে না পারে তাই সকল পিলারের রড ছাদের সাথে সমান করে কেটে দেয় রাজউক। এসময় ওই দম্পতি দেশে না থাকায় শাহাবুদ্দিন এর পিতা ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট অঙ্গীকার করেন যে, জনসাধারণের যাতায়াতের ভিতরের রাস্তাটি ১২ ফিট করবেন, রাজউক নকশা বহির্ভূত অংশ দ্রুত সময়ে অপসারন করবেন এবং ২য় তলার উপরে আর বৃদ্ধি করবেন না। পরবর্তীতে এই দম্পতি রাজউকের সাথে কৃত অঙ্গীকারের কোন কিছু বাস্তবায়ন না করে পুরো কাজ বন্ধ করে দেয়।
চার মাসে পাঁচ তলা বৃদ্ধিঃ
পরবতীতে অদৃশ্য শক্তির জোরে রাজউক এর নিকট ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারকৃত কোন কিছু বাস্তাবায়ন না করে এবং কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে বিগত প্রায় চার মাসে অবৈধভাবে রাতারাতি ২ তলার উপর আরো ৭ তলা বিল্ডিং নির্মাণ করে ফেলেন এবং রাজউক এর পুরোপুরি নকশা বর্হিভূত ও ২য় তলা ভবন সম্পূর্ন করার পর পিছনের ২.৫ শতাংশ জমি নতুন করে ক্রয় করে নাম মাত্র ফাউন্ডেশন দিয়ে পুরাতন বাড়ীর সাথে সংযোজন করে ফেলেন ।
ওই দম্পতির ফেইসবুক পোস্টে তোলপাড়ঃ
বিগত ১৪ জুলাই ২০২৫ ইং তারিখে প্রবাসী দম্পত্তি শাহাবুদ্দিন সরকার ও মার্জিয়া খাতুন তাদের ভেরিফাইড ফেইজবুক পেইজে Samona Sarkar ও Sarkar Marzia তে একটি ভিডিও এবং একটি টি ছবি পোস্ট করে। তাদের প্রকাশিত ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, ২য় তলার ছাদের সবগুলো পিলারের রড মাত্র ২ ইঞ্জি লেপিং বা সংযোগ দিয়ে দুই তলার উপর অত্যন্ত অনিরাপদ, ঝুকিপূর্ণ ও বিপদজ্জনকভাবে আরো ৫তলা ভবন নির্মাণ করেন। ২ ইঞ্জি লেপিং বা সংযোগ দিয়ে দুই তলার উপর অত্যন্ত অনিরাপদ, ঝুকিপূর্ণ ও বিপদজ্জনকভাবে আরো ৫তলা ভবন নির্মাণ করায় সম্পুর্ণ ভবন ধসে পড়ার আতঙ্কে পুরো এলাকাবাসী। দ্রুত পুরো ভবনটি অপসারনের জন্য স্থানীয় এলাকাবাসী রাজউকে লিখিত অভিযোগসহ বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বলে জানা গেছে।
ইঞ্জিনিয়ারদের অভিমতঃ
এই প্রতিবেদকের সাথে একাধিক ইঞ্জিনিয়ারের সাথে কথা হয়, তারা বলেন মাত্র ২ইঞ্চি লেপিং বা সংযোগ দিয়ে কোনভাবেই ৭ তলা ভবন নির্মান করা যায় না। ভূমিকম্পের কথা বাদই দিলাম যদি জোরে বাতাশ হলে এই লেপিংয়ের জায়গায় ফাটল ধরবে। সামান্য ভূমিকম্পে ভেঙ্গে যেতে পারে ভবনটি। ভবনটি দ্রুত অপসারণ করে ফেলা উচিৎ হবে।
এ বিষয়ে প্রবাসী দম্পতির সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা যায়নি। ইটালী ভিলায় গেলে দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যানেজার জানায়, তারা জরুরী কাজে এম্বাসীতে আছেন।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নগর পরিকল্পনাবিদ মোঃ মঈনুল ইসলাম কে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেন নি।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এর জোন ৮/২ এর ইন্সপেক্টর সোহেল রানা বলেন, প্রবাসী দম্পতি একটি পিলার অপসারন করেছেন, মোবাইল কোর্টের অভিযান করার পর পুনরায় অবৈধভাবে আরো ০৫ তলা নির্মাণ করেছেন, সে বিষয়টি আমার জানা নাই। এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এর জোন ৮/২ এর অথরাইজড অফিসার এফ আর আশিক আহম্মেদ জানায়, আমি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে এই জোনে আছি। তবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় যে অঙ্গীকার করেছেন, তার বাস্তবায়ন না করে বাড়ী নির্মানের কোন সুযোগ নাই। তথাপিও যদি আইন অমান্য করে ঝুকিপূর্ণভাবে বাড়ি নির্মাণ করে তাহলে পুরো বাড়ীটি অপসারণ করা হবে।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এর জোন ৮/২ এর উপ-পরিচালক (প্রশাসন) মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন এ দায়িত্ব আমি নাই। কিন্ত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় যে অঙ্গীকার করেছেন, তার বাস্তবায়ন না করে ২ ইঞ্জি লেপিং দিয়ে ঝুকিপূর্ণ বাড়ী নির্মান করে থাকলে বাড়ীতো অপসার করা হবেই, সাথে ফৌজদারী মামলাও করা হবে।
স্থানীয়দের ক্ষোভঃ
যদি অবিলম্বে ভবনটি অপসারণ করা না হয়, তাহলে এলাকাবাসী বাধ্য হয়ে রাজউক অফিস ঘেরাও সহ বড় ধরণের কর্মসূচী দিতে বাধ্য হবে। এছাড়াও, স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, বড় ধরণের কোন দুর্ঘটনা বা প্রান হানির পর রাজউক এসে বলবে ভবনটি অবৈধ ছিল। তাই ভবনটি দ্রুত অপসারণ করা প্রয়োজন বলে মনে করে স্থানীয় এলাকাবাসী।




