ষ্টাফ রিপোর্টার:
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে পারিবারিক ও দাম্পত্য কলহের জেরে মো. সুজন ওস্তাগার (৩২) নামের এক রাজমিস্ত্রি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
বুধবার (৪ নভেম্বর) দিবাগত রাতের কোনো এক সময় উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের বালিয়াগাঁও এলাকায় নিজ বাড়ির টিনশেড ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন।
নিহত সুজন ওস্তাগার নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের মদনগঞ্জ উত্তরপাড়ার বাসিন্দা বদু ওস্তাগারের ছেলে। তিনি বর্তমানে কলাগাছিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বালিয়াগাঁও এলাকায় নিজ বাড়িতে বসবাস করছিলেন। ব্যক্তিজীবনে তিনি দুই মেয়ে ও এক ছেলের জনক। তার বড় মেয়ের বয়স ১০ বছর, ছোট মেয়ের বয়স ৪ বছর এবং একমাত্র ছেলের বয়স ২ বছর।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সুজনের স্ত্রী সালমা আক্তার জীবিকার তাগিদে বর্তমানে সৌদি আরবে রয়েছেন। স্ত্রী প্রবাসে থাকার কারণে বেশ কিছুদিন ধরে তাদের মধ্যে পারিবারিক টানাপোড়েন ও দাম্পত্য কলহ চলছিল। প্রায়ই মুঠোফোনে তাদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হতো। ধারণা করা হচ্ছে, পারস্পরিক বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দ্বন্দ্ব থেকেই ক্ষোভে ও অভিমানে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে সুজনের ১০ বছর বয়সী বড় মেয়ে ঘুম থেকে উঠে ঘরের আড়ার সঙ্গে বাবার নিথর দেহ ঝুলতে দেখে চিৎকার দেয়। তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে বিষয়টি দেখতে পান। মুহূর্তেই খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়ে মদনগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে মদনগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য ভিক্টোরিয়া হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও ঠিক কী কারণে তিনি এ ঘটনা ঘটিয়েছেন তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।




