সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি : শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশ ত্যাগের খবরের সাথেই নিপাত ঘটে ‘ওসমানীয় রাজত্বের’। তবে নারায়ণগঞ্জের দীর্ঘদিনের ওসমানীয় রাজত্বের নিপাত ঘটালেও তাঁদের অপরাধ জগতের ডেভিলরা ধরা ছোঁয়ার বাহিরে থাকায় জনমনে দেখা মিলছে অসস্তি। এর মধ্যে নাসিক ৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতি গ্রেফতার হলে ও তার সহযোগীরা অধরা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন। এর মধ্যে অনেকেই প্রকাশ্যে এলাকায় দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছে বিএনপির কিছু কথিত নেতকার্মীদের শেল্টারে। নাসিক ৬নং ওয়ার্ডে আদমজী বাজার এলাকায় সন্ত্রাসী মতিউর রহমান মতির অন্যতম সহযোগী পাগলা হাশেমের ছেলে যুবলীগ নেতা জালাল উদ্দীন ওরফে ট্যাবলেট জালাল উদ্দীন। থানা আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক মতিউর রহমান মতির রাজনীতিতে যুবলীগ নেতা হিসেবেই দীর্ঘ ১৭ বছর সক্রিয় ছিল জালাল উদ্দীন। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ঢাকা- চট্টগ্রাম মহাসড়কে মতির সাথে ছাত্র হত্যায় অংশ নিয়েছেন যুবলীগ নেতা জালাল উদ্দীন, তার ভাই সালাউদ্দিন ও তাঁতীলীগ নেতা আলাউদ্দিন। ছাত্র হত্যার একাধিক মামলায় মতি গ্রেফতার হয়ে কারাবরণ করছেন। বর্তমানে মতিউর রহমান মতির এই সহযোগী জালাল উদ্দীন ভোল পাল্টে নতুন বাজার এলাকার সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা ও বর্তমান কথিত বিএনপি নেতা দর্জি সেলিমের শেল্টারে নানান অপকর্মে লিপ্ত রয়েছেন। চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, জমি দখল সহ তার বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অভিযোগ। প্রতি শুক্রবার ভাসমান দোকান থেকে জালাল উদ্দীনের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক চাঁদা তোলার অভিযোগ জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়াও আদমজী বাজারের বিভিন্ন দোকান থেকে ৫০০/১০০০/২০০০ করে টাকা দাবি করেন জালাল উদ্দীন। ব্যবসায়ীরা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শুরু করেন মারধর। এছাড়াও লোকজন দিয়ে নাসিক ৬নং ওয়ার্ডে চালাচ্ছেন রমরমা মাদক ব্যবসা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যবসায়ীরা জানান, যুবলীগ নেতা জালাল উদ্দীন একজন চিহ্নিত চাঁদাবাজ। সে প্রতিনিয়ত আমাদের দোকানে এসে ব্যবসায়ীদের নিকট চাঁদা দাবি করেন। আমরা টাকা না দিলে মারধর শুরু করেন এবং বিভিন্ন জিনিসপত্র দোকান থেকে জোরপূর্বক নিয়ে যান। এবিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি এমদাদুল হক বলেন, ‘যুবলীগ নেতা জালাল উদ্দিনের বিষয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপরাধী যেই হোক না কেনো তাঁকে কোনো ছাড় দেয়া হবে না। খুব শীঘ্রই তাঁকে আইনের আওতায় আসতে হবে।’




